যুদ্ধক্ষেত্রে পারমাণবিক বোমা এমন এক অস্ত্র যেটি দ্বারা নির্দিষ্ট একটি শহর থেকে শুরু করে পুরো দেশই উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পারমাণবিক বোমার ব্যবহার আর না হলেও বর্তমান বিশ্ব পারমাণবিক হামলার বেশ কাছাকাছিই রয়েছে।
আমেরিকা, রাশিয়া,উত্তর কোরিয়া,চীন ও জাপানের মতো দেশগুলোর কাছে এমন সব ভয়ংকর পারমাণবিক বোমা রয়েছে যা পুরো পৃথিবীকেই লন্ডভন্ড করে দিতে সক্ষম।
এ দেশ গুলো নিয়মিতভাবেই তাঁদের অস্ত্রাগারে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর পারমাণবিক বোমা সংগ্রহ করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই গভীর সাগরে এই বোমা গুলোর পরীক্ষা নিরীক্ষাও চালাচ্ছে তাঁরা।
যদিও জাতিসংঘের লক্ষ্য পুরো পৃথিবী থেকে পারমাণবিক অস্ত্রগুলো নিরস্ত্র করে ফেলা, তবুও দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে অথবা শক্তিমত্তা দেখাতে এখনো প্রতিনিয়ত বোমা বানিয়েই যাচ্ছে।
তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে ,বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে কার কাছে আছে সবচেয় শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা?
২০২২ সালের হিসেব বলছে, বর্তমানে বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে ১৬,৩০০টির মতো পারমাণবিক বোমা আছে।
স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুসারে রাশিয়ার কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পারমানবিক বোমা রয়েছে। দেশটিতে এধরনের বোমার সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি৷
দেশটির কাছে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা Tsar bomba, যা ১৯৬১ সালে উত্তর মহাসাগরের Novaya Zemlya দ্বীপে পরীক্ষা করা হয়েছিল।
বোমাটি এতোই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলো যে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬৭ কিলোমিটার উপরেও এর ধোঁয়া উড়ে গেছিলো। এ ছাড়াও সমতল ভূমি থেকে ১০০০ কিলোমিটারের আশপাশ থেকেও এই বিস্ফোরণ দেখা গিয়েছিলো।
1945 সালে মার্কিন বাহিনী জাপানে যে পারমাণবিক বোমাটি ফেলা হয়েছিল, সে বোমার থেকেও ৩৮০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এই Tsar bomba বোমাটি।
রাশিয়ার পর সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক বোমা আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তাঁদের কাছে মজুদকৃত পারমাণবিক বোমার পরিমাণ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যারা কি না দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পারমাণবিক বোমা হামলা করেছিল। বোমাটির নাম ছিলো RDS-220.
জাপানের ওই হামলায় ৭৪ হাজারের মতো মানুষ মারা গিয়েছিলো। এর পর থেকেই জাতিসংঘ পুরোবিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্র করার ঘোষণা দেয়।
বিশ্বের এই মহাপরাশক্তি দেশ দুটিই সর্বাধিক সংখ্যাক পারমাণবিক বোমা তাঁদের অস্ত্রাগারে রেখে দিয়েছে। রাশিয়া ও আমেরিকা ছাড়া অল্প সংখ্যক দেশ গুলোর কাছে আছে মরণঘাতি এই অস্ত্র।
এশিয়ার পরাশক্তি চীনের কাছে রয়েছে ৩৫০টির মতো পারমাণবিক বোমা। রাশিয়া ও আমেরিকার মতো এতো বেশি সংখ্যক বোমা তাঁদের না থাকলেও প্রযুক্তিগত দিক থেকে ব্যাপক উন্নতি হওয়ায় চীনও ইদানিং তাঁদের পারমাণবিক বোমার উৎপাদন মজুদ বাড়িয়েছে।
ফ্রান্সের কাছে রয়েছে তিনশোটির মতো পারমাণবিক বোমা, যার অধিকাংশই আবার সাবমেরিনের সাথে সংযুক্ত। অর্থাৎ পানির নিচ দিয়ে হামলা করলে এ বোমাগুলো হয় বেশ শক্তিশালী। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা রক্ষায় অন্তত একটি সাবমেরিন পারমানবিক বোমা সহ টহল দেয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক বোমা উৎপাদনে ভারতকে ছাড়িয়ে শীর্ঘে আছে পাকিস্তান। দেশটির কাছে আছে ১৬৫টি পারমাণবিক বোমা। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে পাকিস্তানকে টেক্কা দিতে ভারতও প্রস্তুত করে রেখেছে ১৬০ টির বেশি পারমাণবিক বোমা।
ইতোমধ্যে দেশ দুইটি তিনবারের মতো একে অপরের সাথে যুদ্ধে জড়িয়েছে। আশংকা করা হচ্ছে যদি আগামীতে এই দুই দেশ আবারো সংঘাতে জড়ায়, তবে সেই যুদ্ধ পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এই দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাজ্যের কাছে দুইশোর বেশি পারমাণবিক বোমা আছে। আর যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরায়েলের কাছে কতগুলো বোমা আছে সে সংখ্যাটা এখনো গোপনীয়ই আছে।
পুর্ব এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার কাছে আছে ২০ থেকে ৪০ টি পারমাণবিক বোমা। দেশটি 2017 সালে সর্বশেষ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিলো। ১০০ কিলো টন ওজনের বোমাটি ছিলো বিশ্বের প্রথম থার্মো-নিউক্লিয়ার বোমা যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানে ফেলা বোমা থেকে ৬ গুণ বেশি শক্তিশালী।
ভবিষ্যেতে পৃথিবীতে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, আর পরাক্রমশালী দেশগুলো একে অপরের উপর পারমাণবিক বোমা হামলা চালায় তবে পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য।