যুক্তরাষ্টের সঙ্গে গলায় গলায় ভাবের জন্যে পরিচিত জাপান। কিন্তু এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাশিয়ার তেল কিনছে যুক্তরাষ্টের এশিয়ার মিত্র দেশটি।
শুধু তাই নয় আমেরিকা এবং তার পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর বেধে দেয়া দাম লঙ্ঘন করেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। এমন খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
রাশিয়াকে কোণঠাসা করতে রাশিয়ার তেল শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো। পরবর্তীতে রাশিয়ার তেলের দাম প্রতিব্যারেল সর্বোচ্চ ৬০ ডলার ঠিক করে দিয়েছিল ইউরোপীয় মিত্ররা।
রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করতে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি সেভেন, এমন সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। কিন্তু এর মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে গেছে সংগঠনটির অন্যতম অংশীদার জাপান।
দেশটি তার তেল চাহিদা পূরণ করার জন্য বেধে দেওয়া সেই দামের তেল কেনা বাদ দিয়ে, রাশিয়া থেকে বেশি দামেই তেল কেনার দিকে এগুচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, রাশিয়া থেকে বেশি দামে তেল কেনার ব্যাপারে জাপানকে সম্মতি দিয়েছে খোদ মার্কিন সরকার।
ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র হিসেবে ভাবা হয়েছিল জাপানকে। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে রাশিয়া থেকে তেল নিলে জাপান জোরালোভাবে ইউক্রেনকে আর সমর্থন দিতে পারবে না।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাসের আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল। উল্টোপিঠে জাপান সারা বছর রাশিয়া থেকে তার চাহিদামতো গ্যাস আমদানি করেছেন।
জাপান হচ্ছে জি-সেভেনের একমাত্র সদস্য দেশ যারা ইউক্রেনে মারণাস্ত্র পাঠায়নি। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কির আবেদনে সাড়া দেয়নি তারা।
এদিকে মার্কিন আহ্বান উপেক্ষা করেই গত রোববার ওপেক প্লাস নতুন করে তেলের উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের ঘাটতি দেখা দেবে পাশপাশি দামও বেড়ে যাবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।
এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়া হতে পারে জাপানের জন্য তেল আমদানির নির্ভরযোগ্য দেশ। তাই সংকট মোকাবিলায় বেশি দামেই রাশিয়ার তেল কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে দেশটির প্রশাসন।
এদিকে ওপেকের উৎপাদন হ্রাস করার সিদ্ধান্তে
অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে রাশিয়া। সাধারণত তেলের দাম বাড়লে বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো যেমন লাভ করে থাকে, তেমনি রাশিয়ার তেলের চাহিদা বাড়ে সমান হাড়ে।
সারা বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ব্যবহৃত হয়। ফলে তেলের উৎপাদন মাত্র ১ শতাংশ কমানো হলেও দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু বছরের শেষভাগে বিশ্ব মন্দার আশঙ্কায় তেলের দাম আবার কমতে শুরু করে। তবে ওপেকের তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তে আবার তা বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে আদতে রাশিয়ারই লাভ। ইউক্রেনে যুদ্ধ চালাতে তাদের অর্থ খরচ হচ্ছে। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে এমনিতেই দেশটির অর্থনীতি অবরুদ্ধ। এ পরিস্থিতিতে তার পক্ষে যুদ্ধের ব্যয়ভার নির্বাহ করতে তেল বিক্রির অর্থের বিকল্প নেই।
পশ্চিমারা রাশিয়ার জ্বালানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও অনেক দেশ মস্কোর কাছ থেকে তেল-গ্যাস কিনছে। এ থেকে রাশিয়া যেন বেশি মুনাফা করতে না পারে, সে জন্য জি-৭ রাশিয়ার তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলার বেঁধে দিয়েছে।
জ্বালানির বাজারদর বেশি থাকলে রাশিয়ার পক্ষে দর-কষাকষির সুবিধা হয়। সে জন্য তাদের সহায়তা করতে ওপেক উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।