রাশিয়াকে ঠেকাতে মিত্র ইউক্রেনের হাতে নিষিদ্ধ বোমা তুলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতোমধ্যেই কিয়েভকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ক্লাস্টার এবং ভ্যাকুয়াম বোমা সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন বোমা ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল ইউক্রেন। সেবারে অবশ্য যুক্তরাষ্ট মানব বিধ্বংসী এই বোমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।
তখন তারা এই বোমা ব্যবহারের ফলে পুতিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছিল, কিন্তু এবারে তারা সরে এসেছে তাদের সেই পুরনো অবস্থান থেকে।মার্কিনিদের দাবি, এমন বোমা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বেসামরিক নাগরিকের ক্ষতির কথা চিন্তা করে। কিন্তু তাদের পাঠানো অস্ত্র বেসামরিকদের ক্ষতির কারণ হবে না।
মার্কিনিদের এমন বক্তব্যকে অনেকেই ব্যখ্যা করছেন ডাবল স্ট্যন্ডার্ড হিসেবে। যদিও মস্কো প্রশাসন এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি এখনো দেয়নি।তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই মার্কিনিদের এমন গণ বিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান ব্যখ্যা করেছে।
ক্যালেন্ডারের হিসেবে রুশ-ইউক্রেন সংঘাত পেরিয়েছে প্রায় এক বছরেরও বেশি সময়। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে এখন নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নিতে শুরু করেছে। রাশিয়ান যোদ্ধাদের হাতে তাদের হারানো ভূমিগুলো পুনরুদ্ধারে তারা অভিযান শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সেই অভিযানে খুব একটা ভাল ফল আসেনি।
বরং শোনা যাচ্ছে, ইউক্রেনের এই অগ্রযাত্রা রুশ বাহিনীর একটা পরিকল্পিত ফাঁদ। যুদ্ধের এমন পরিস্থিতিতে মার্কিনিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।তাই যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের শক্তি বাড়ানোর জন্যে তারা নতুন করে অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই অস্ত্রের তালিকায় আছে ক্লাস্টার বোমার নাম।
যার ব্যবহার জেনেভা কনভেনশনের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ঐ সম্মতিপত্রে সাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন সহ প্রায় ১১০ টি দেশ। তাই বলা হচ্ছে, ক্লাস্টার বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মার্কিনিরা নিজেদের চুক্তি নিজেরাই ভঙ্গ করেছে। যদিও এই চুক্তিতে সম্মতি নেই পুতিন সরকারের।
ক্লাস্টার বোমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য, এটি বাতাসে থাকতে বিস্ফোরিত হয়। এবং বিপুল এলাকা জুড়ে বোম্বলেট ছড়িয়ে দেয়। যার মূল কাজ মাটিকে গরম করে তোলা। কিন্তু মুল সমস্যা হলো, মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া বোম্বলেটগুলো অবিষ্ফোরিত থেকে যায়। ফলে যুদ্ধ শেষেও এই বোমার সক্ষমতা থাকে বিস্ফোরিত হওয়ার।
অতীতেও অনেকবার যুদ্ধ শেষে ক্লাস্টার বোমার বোম্বলেট বিষ্ফোরিত হয়ে বেসামরিক নাগরিক আহত কিংবা প্রাণ হারিয়েছে। তাই ২০০৮ সালে জেনেভা কনভেনশনের অধীনে এই বোমা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং ঘোষিত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে এর ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের শামিল। মার্কিনরা এই বোমা সরবরাহের কথা অস্বীকার করছেন। তাদের মতে, তাদের সরবরাহকৃত ক্লাস্টার বোমা ডাড রেট অনেক কমিয়ে তৈরি করা হয়েছে।
তাই এটি মাটিতে পড়ে অবিস্ফোরিত অবস্থায় থাকবে না। ফলে বেসামরিক নাগরিকদের খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা নেই বলে তারা মনে করছে।এ ব্যাপারে অবশ্য পুতিন প্রশাসন এখনো কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাঠায়নি। তবে বেশকিছু মানবাধিকার সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ জানিয়েছে।
শোনা গিয়েছে, এ বিষয়টি আমলে নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মার্কিন আদালতে মামলার প্রস্ততি নিচ্ছে। মামলা হলে অবশ্য ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে।এই বোমার ব্যবহার অবশ্য রুশ ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন কিছু নয়। যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এসব বোমা ব্যবহার করার অভিযোগ আনে ইউক্রেন।ইউক্রেনের বিরুদ্ধে গেল ডিসেম্বরে এমন গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এসেছিল। অবশ্য দুই পক্ষই এমন অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে আসছে।