আন্তর্জাতিক


নরওয়েতে ‘রুশ গুপ্তচর’ তিমির রহস্যময় মৃত্যু


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার

নরওয়েতে ‘রুশ গুপ্তচর’ তিমির রহস্যময় মৃত্যু
নরওয়ের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে ১৪ ফুট লম্বা ও ২,৭০০ পাউন্ড ওজনের বিশাল আকৃতির একটি তিমির মরদেহ পাওয়া গেছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই তিমিটিকে রাশিয়ার নৌবাহিনী বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে গুপ্তচর হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল।
এই তিমিটি ‘হলদিমির’ নামে পরিচিত, যার নামকরণ করা হয়েছে নরওয়ের ‘হল’ এবং রাশিয়ার ‘ভ্লাদিমির’ শব্দ দুটি মিশিয়ে। প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালে প্রকাশ্যে আসার পর থেকে এই তিমিকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়। সে সময় থেকে ধারণা করা হয় যে, এটি রুশ নৌবাহিনীর গুপ্তচর তিমি, কারণ তিমিটির গলায় মানুষের তৈরি বর্ম লাগানো ছিল।
নরওয়ের মৎস্য বিভাগ তিমিটিকে ধরে ফেলে এবং তখন তার গায়ে লাগানো বর্ম ও একটি অ্যাকশন ক্যামেরা সরিয়ে নেয়। তিমির গায়ে থাকা প্লাস্টিক মোড়কে লেখা ছিল ‘ইকুইপমেন্ট সেন্ট পিটার্সবার্গ’, যা এই তিমির রুশ সংযোগের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে।
এসময় নরওয়ের মৎস্য বিভাগ অনুমান করেছিল যে, তিমিটি সম্ভবত খাঁচা থেকে পালিয়ে এসেছে এবং রাশিয়ার নৌবাহিনীর দ্বারা প্রশিক্ষিত ছিল। তিমিটির মানুষের প্রতি আকর্ষণ এবং ঘনিষ্ঠতা এ অনুমানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে উঠে আসে।
রাশিয়া এ ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। এটি সত্যিই একটি গুপ্তচর তিমি কিনা, তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলতে থাকে।
গত বছরেও অসলোতে হলদিমিরকে দেখা গিয়েছিল, যা অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। নরওয়ে প্রশাসন তখন জনগণকে সতর্ক করে বলেছিল, হলদিমিরের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য। মৎস্য দফতরের কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন যে, অসলো ফিয়র্ডে যাতায়াতরত কেউ হয়তো হলদিমিরকে ক্ষতি করেছে। তবে এই সন্দেহ এখনও স্পষ্ট নয়।
নরওয়ের মেরিন মাইন্ডের প্রতিষ্ঠাতা সেবাস্তিয়ান স্ট্যান্ড বলেন, ‘হলদিমিরের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সে নরওয়ের হাজার হাজার মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছিল।’ তিমিটির আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন, যা এই ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।












4o

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।