আন্তর্জাতিক
সাদ্দাম থেকে মাদুরো-যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখে পড়া রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাস
.webp)
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোনো দেশের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে সস্ত্রীক এভাবে রাজধানী থেকেই আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আর কোন কোন দেশের শাসকদের গ্রেপ্তার করেছে, আর তাদের পরিণতিই বা কী হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার ঘটনাটির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায় ১৯৮৯ সালে পানামার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়। নোরিয়েগার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগ আনে। পানামায় মার্কিন হামলার পর তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘদিন মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে ফ্রান্স ও শেষে নিজ দেশ পানামায় কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ইতিহাসে আরও বড় উদাহরণ হিসেবে আসে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নাম। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান চলাকালে ১৩ ডিসেম্বর তিকরিতের একটি গুহা থেকে সাদ্দামকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধের পর তাঁকে ইরাকি আদালতে বিচার করে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
আরব বসন্তের সময় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতিও ছিল ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সমর্থনে বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে ২০১১ সালে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে সির্ত শহরে ধরা পড়ার পর সংঘর্ষের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।
সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের নাম। ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে মাদক পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে বিচার শেষে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতায় তাঁকে ক্ষমা করেন।
এই প্রেক্ষাপটে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ ব্যবহার করে মাদক পাচার, দুর্নীতি ও অবৈধ সরকার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাদুরো। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনে দ্রুত বিচার শুরু হবে।
এদিকে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ মনে করছেন, দেশটিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো কিংবা সাবেক প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে।
সাদ্দাম, নোরিয়েগা, গাদ্দাফি থেকে শুরু করে মাদুরো ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো বহু শাসকের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হয়েছে। মাদুরোর ক্ষেত্রেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


.jpg)





