আন্তর্জাতিক


সাদ্দাম থেকে মাদুরো-যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখে পড়া রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাস


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার

সাদ্দাম থেকে মাদুরো-যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রেপ্তার ও শাস্তির মুখে পড়া রাষ্ট্রপ্রধানদের ইতিহাস

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনাদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কোনো দেশের ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানকে সস্ত্রীক এভাবে রাজধানী থেকেই আটক করার ঘটনা সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন। এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আর কোন কোন দেশের শাসকদের গ্রেপ্তার করেছে, আর তাদের পরিণতিই বা কী হয়েছিল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে আটক করার ঘটনাটির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল পাওয়া যায় ১৯৮৯ সালে পানামার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায়। নোরিয়েগার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচারের অভিযোগ আনে। পানামায় মার্কিন হামলার পর তাঁকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘদিন মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে ফ্রান্স ও শেষে নিজ দেশ পানামায় কারাবন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

 

ইতিহাসে আরও বড় উদাহরণ হিসেবে আসে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নাম। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান চলাকালে ১৩ ডিসেম্বর তিকরিতের একটি গুহা থেকে সাদ্দামকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধের পর তাঁকে ইরাকি আদালতে বিচার করে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

 

আরব বসন্তের সময় লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরিণতিও ছিল ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সমর্থনে বিদ্রোহীদের অভিযানের মুখে ২০১১ সালে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন। পরে সির্ত শহরে ধরা পড়ার পর সংঘর্ষের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। সেই দৃশ্য বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল।

 

সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের নাম। ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁকে মাদক পাচারের অভিযোগে আটক করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে বিচার শেষে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশেষ ক্ষমতায় তাঁকে ক্ষমা করেন।

 

এই প্রেক্ষাপটে মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ ব্যবহার করে মাদক পাচার, দুর্নীতি ও অবৈধ সরকার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন মাদুরো। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি আইনে দ্রুত বিচার শুরু হবে।

 

এদিকে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। কেউ মনে করছেন, দেশটিতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো কিংবা সাবেক প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস উরুতিয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে।

 

সাদ্দাম, নোরিয়েগা, গাদ্দাফি থেকে শুরু করে মাদুরো ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়ানো বহু শাসকের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হয়েছে। মাদুরোর ক্ষেত্রেও সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।


সম্পর্কিত

সাদ্দামযুক্তরাষ্ট্রআন্তর্জাতিক

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।