আন্তর্জাতিক


ইরানে সামরিক অভিযান এড়াতে চান ট্রাম্প


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

ইরানে সামরিক অভিযান এড়াতে চান ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে চান না এবং সম্ভাব্য একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসার বিষয়ে আশাবাদী। তবে একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের কথাও উল্লেখ করেছেন।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার প্রথম মেয়াদে আমি আমাদের সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করেছি। এখন আমাদের একটি বাহিনী ইরান নামের একটি স্থানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আশা করি, সেটি ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।

 

ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি আগেও তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং আবারও তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের অনেক বড় ও অত্যন্ত শক্তিশালী জাহাজ ইরানের দিকে যাত্রা করছে। তবে যদি সেগুলো ব্যবহার করতে না হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে ভালো।

 

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে এমন জল্পনা কয়েক দিন ধরেই চলছে। এরই মধ্যে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। ইরান অভিমুখে আরও নৌবহর পাঠানোর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে সামরিক মহড়া চালানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

 

গত মঙ্গলবার এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে আছে। আমি আশা করছি, তারা সমঝোতায় আসতে রাজি হবে।

 

তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত বুধবার বলেন, সামরিক হুমকির মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো ফলপ্রসূ হতে পারে না। যদি যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে হুমকি ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গ বাদ দিতে হবে।

 

এদিকে দ্য গার্ডিয়ান–এর খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রস্তুতিমূলক সামরিক মহড়া চালাবে। কয়েক দিনব্যাপী এই মহড়ায় যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আঞ্চলিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়, স্থান ও ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

 

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন–এর নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে। এই নৌবহরে রয়েছে একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডেস্ট্রয়ার, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক।

 

অন্যদিকে, ইরানে সম্ভাব্য কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন বলে মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে।


সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিকইরানট্রাম্প

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।