আন্তর্জাতিক
ইরানে কি শিগগিরই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র? সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির ইঙ্গিতগুলো কী বলছে
.jpg)
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই তৎপরতা কেবল প্রতিরোধমূলক সতর্কতা নয় বরং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের স্পষ্ট সংকেতও হতে পারে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে আরব সাগরে মোতায়েন রয়েছে। এটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক ডেস্ট্রয়ার, সাবমেরিন ও আধুনিক যুদ্ধবিমানবাহী বহর। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতেই এই মোতায়েন।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিশ্লেষকেরা। কারণ, ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্য সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হয় ব্যাপক গণবিক্ষোভ। শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে আন্দোলন হলেও দ্রুত তা সরকার পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ আটক হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করেন এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সাহায্য আসছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে।
যদিও পরবর্তীতে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশ্বাস দিলে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় অবস্থান নেন, তবু মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি থেমে থাকেনি।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ইরাক, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বিমানবাহিনীও একাধিক যুদ্ধপ্রস্তুতিমূলক মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মতো রণতরি একটি ভাসমান বিমানঘাঁটি হিসেবে কাজ করে। এতে প্রায় ৬৫টি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট। দ্রুতগতিসম্পন্ন ডেস্ট্রয়ার জাহাজগুলো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম।
২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালায়। এটি ছিল ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রকাশ্য সামরিক অভিযান। সেই হামলার আগে একই ধরনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান প্রস্তুতি নতুন হামলার দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে অন্যরা বলছেন, বিক্ষোভ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বেশি।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মতে, যেকোনো সামরিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে ইরানের সাধারণ মানুষকে। এতে মধ্যপ্রাচ্য আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার
ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।








