আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনায় বসতে রাজি হলেও এজেন্ডা নিয়ে অনড় অবস্থানে দুই দেশ
.jpg)
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আগামীকাল শুক্রবার ওমানের রাজধানী মাসকাটে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে। উভয় দেশের কর্মকর্তারা আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে আলোচনার বিষয়বস্তু বা এজেন্ডা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গভীর মতভেদ রয়ে গেছে।
ওয়াশিংটন চায়, আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকুক। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কেবল পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই আলোচনা করতে প্রস্তুত।
প্রাথমিকভাবে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও আলোচনার পরিধি ও স্থান নিয়ে মতবিরোধের কারণে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ ওমানের মাসকাটে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়। তবে এজেন্ডা নিয়ে কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং একটি সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এই স্পর্শকাতর আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সামরিক হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির “খুব চিন্তিত হওয়া উচিত”। তিনি দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসছে, যদিও বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, ইরানিরা চাইলে আমরা প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক ইস্যুর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও আলোচনায় থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। আরেক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে আলোচনা তেহরান স্বাগত জানালেও এর বাইরে বিষয় যুক্ত করার মার্কিন জেদ আলোচনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অংশ নেবেন।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।


.jpg)






