আন্তর্জাতিক


সিনেমা নয়, বাস্তবের চিফ মিনিস্টার হচ্ছেন থালাপতি বিজয়?


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৫ মে ২০২৬, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

সিনেমা নয়, বাস্তবের চিফ মিনিস্টার হচ্ছেন থালাপতি বিজয়?

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়েছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থালাপতি বিজয়। দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার পর্দায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখা এই তারকা এবার বাস্তবের রাজনীতিতেও বড় চমক দেখিয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নেতৃত্বাধীন দল রাজ্যে শক্ত অবস্থান তৈরি করে চিফ মিনিস্টারের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলচ্চিত্র তারকাদের রাজনীতিতে আসার ইতিহাস নতুন নয়। তবে সাফল্যের গল্প খুব একটা দেখা যায়নি। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বহু জনপ্রিয় মুখ চেষ্টা করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ২০০৯ সালের নির্বাচনে চিরঞ্জীবি নেতৃত্বাধীন দল প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পায় এবং পরে তা কংগ্রেসে একীভূত হয়। পবন কল্যাণ ২০১৯ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেও পরাজিত হন এবং তাঁর দলও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি।

অন্যদিকে, রজনীকান্ত বহু বছর ধরে রাজনীতিতে আসার জল্পনা তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। কমল হাসান নিজস্ব দল গড়ে একাধিক নির্বাচনে অংশ নিলেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাননি; বরং ভোটের হার কমে যাওয়ার বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

এই প্রেক্ষাপটে বিজয়ের রাজনৈতিক উত্থানকে ভিন্নধর্মী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর সাফল্যের পেছনে শুধু তারকা জনপ্রিয়তা নয়, বরং তরুণ ভোটারদের সমর্থন, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং প্রচলিত দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির প্রতি মানুষের এক ধরনের বিরক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে এই দুই দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে সেই প্রচলিত সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিজয়ের দল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর দিকে।

ভোট গণনার শুরুতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চিত্র বদলাতে শুরু করে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে বিজয়ের দল ১০৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। বিপরীতে, ক্ষমতাসীন ডিএমকে প্রায় ৫০টি আসনে পিছিয়ে রয়েছে।

এই ফলাফল অব্যাহত থাকলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেখানে একের পর এক তারকা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে বিজয়ের এই অগ্রযাত্রা নিঃসন্দেহে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবুও বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সিনেমার সুপারস্টার থেকে বাস্তবের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার পথে রয়েছেন থালাপতি বিজয় যা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক ‘ব্লকবাস্টার’ অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

 


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

ক্ষমতা ছাড়বেন না মমতা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, সতর্কবার্তা ইরানের স্পিকারের

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সাম্প্রতিক নৌযান হামলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে আঘাতের ঘটনার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজেপির জয়কে ‘ব্যক্তিগত’ বললেন মিমি চক্রবর্তী

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টালিউড তারকাদের প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই আরজি কর মেডিকেল কলেজকেন্দ্রিক ঘটনার নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তিনি এই জয়কে নিজের কাছে “খুবই ব্যক্তিগত” বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনীতিতে আসতে চাপ দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে করেছিলেন মামলা, সেই থালাপতিরই নির্বাচনে বাজিমাত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চমক দেখিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ফলাফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।