আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে আসতে চাপ দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে করেছিলেন মামলা, সেই থালাপতিরই নির্বাচনে বাজিমাত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে চমক দেখিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়েই তার দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই ফলাফলকে রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
৫১ বছর বয়সী এই তারকা দীর্ঘদিন ধরে তামিল সিনেমার শীর্ষ নায়কদের একজন। তার জনপ্রিয়তা যে রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে, তা অনেকেই অনুমান করেছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে বিজয় নিজেই বলেছিলেন, “২৩৪টি আসনেই প্রার্থী একজন—বিজয়।” সেই আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
তবে বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ নাটকীয়। মাত্র কয়েক বছর আগে, তাকে রাজনীতিতে আনার উদ্যোগ নেওয়ায় নিজের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে প্রকাশ্যে নিজেকে ‘বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’ (ভিএমআই) থেকে দূরে সরিয়ে নেন এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে সংগঠনটি বিলুপ্ত করা হয়।
এরপর ধীরে ধীরে নিজের শর্তে রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিতে থাকেন বিজয়। ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি তার দল টিভিকে চালু করেন। যদিও তার রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে—দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা তার ফ্যান ক্লাবগুলোর মাধ্যমে। ‘অল ইন্ডিয়া থালাপাতি বিজয় মাক্কাল আইয়াক্কাম’-এর ব্যানারে এসব ফ্যান ক্লাব সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করত, যা পরবর্তীতে একটি সংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামোতে রূপ নেয়।
অভিনয় জীবনের শুরু ১৯৮৪ সালে শিশু শিল্পী হিসেবে। তবে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সেন্থুরপান্ডি’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি মূলধারায় জনপ্রিয়তা পান। পরে অ্যাকশন ও বাণিজ্যিক ছবিতে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ উপাধি অর্জন করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে পর্যন্ত বিজয় বরাবরই ছিলেন কিছুটা সংযত ও প্রচারবিমুখ। এমনকি ২০২১ সালেও তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা নেই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলালে তিনিও সিদ্ধান্ত নেন সরাসরি মাঠে নামার।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের বাইরে নতুন একটি বিকল্প খুঁজছিলেন ভোটাররা। সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছেন বিজয়। তরুণ ও নারী ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা, পাশাপাশি সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠী—সব মিলিয়ে এই সাফল্য এসেছে।
অভিজ্ঞতা ও আদর্শিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নির্বাচনের ফলাফল বলছে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজয়ের রাজনৈতিক কৌশল সফল হয়েছে। সিনেমার পর্দা থেকে উঠে এসে বাস্তব রাজনীতিতে এমন অভিষেক—তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
ক্ষমতা ছাড়বেন না মমতা
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে।”

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত, সতর্কবার্তা ইরানের স্পিকারের
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সাম্প্রতিক নৌযান হামলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে আঘাতের ঘটনার পর তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজেপির জয়কে ‘ব্যক্তিগত’ বললেন মিমি চক্রবর্তী
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টালিউড তারকাদের প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর মধ্যেই আরজি কর মেডিকেল কলেজকেন্দ্রিক ঘটনার নির্যাতিতার মায়ের নির্বাচনী জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ মিমি চক্রবর্তী। তিনি এই জয়কে নিজের কাছে “খুবই ব্যক্তিগত” বলে উল্লেখ করেছেন।

বিপুল ভোটে হারলেন শাকিবের নায়িকা
পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগর কেন্দ্রের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কেন্দ্র থেকে দেড় বছর আগে জয় পেয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সাফল্যের স্বাদ পেয়েছিলেন, সেই একই আসনেই এবার বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের কাছে হেরে গেলেন তিনি।







