

নববর্ষের দিনে রমনার বটমূলে বোমা হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি শফিকুর ইসলামকে গ্রেফতার করতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র্যাব)।
এলিট এই ফোর্স জানিয়েছে, মুফতি শফিকুর ইসলাম আফগান ফেরত তালেবান যোদ্ধা। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তারা কয়েকজন মিলে হরকাতুল জিহাদ (হুজি) গঠন করেন। তিনি নবগঠিত হরকাতুল জিহাদের আমির হন। ৯৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত সুরা সদস্য ছিলেন। ২০০৪ এ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ অফিসে গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ এ সাবেক অর্থমন্ত্রী এএসএম কিবরিয়া হত্যা মামলায় মূল পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম।
শুক্রবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন তাদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে হরকাতুল জিহাদকে সংগঠিত করতে বিভিন্ন সময় আত্মগোপনে থেকে জঙ্গিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিতেন মুফতি শফিকুর। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পলাতক থেকে বিভিন্ন বোমা হামলা এবং জঙ্গি হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। পলাতক থেকে তিনি সেসময় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। নিজের পরিচয় লুকাতে তিনি আত্মগোপনে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতির কাজ করেন। বিশেষ করে দেশের চরাঞ্চল এলাকার মসজিদগুলোকে বেছে নিতেন শফিকুল ইসলাম। নাম ঠিকানা এবং ভোটার আইডি কার্ড পরিবর্তন করে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, ভুয়া পরিচয়ে পলাতক থাকার কারণেই তাকে শনাক্ত করা যায়নি। নরসিংদির একদম চরাঞ্চলে থাকার কারণে তাকে চেনা যায়নি। এই সময় তিনি আব্দুল করিম নামে নিজেকে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সাথে যোগাযোগ না করার কারণে তাকে শনাক্ত সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে শুধুমাত্র কয়েকবার ছেলের সাথে যোগাযোগ করেছেন। কয়েকদিন থেকে তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। র্যাব নিরাপত্তা চিন্তা করে তিনি যে মসজিদের ইমাম ছিলেন, সেই এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেনি। সেখানে তার জনপ্রিয়তা থাকার সম্ভাবনা ছিল। এতে জনগণের পক্ষ থেকে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারতো। তাই তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় নি।



