আইন আদালত


বেনারশী পল্লীতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ব্যবসায়ীদের বাধা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ এপ্রিল ২০২২, ০৪:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার

বেনারশী পল্লীতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযানে ব্যবসায়ীদের বাধা

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কেনাকাটায় নানা অনিয়ম ধরতে মিরপুর বেনারশী পল্লীতে বিশেষ অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় পণ্যের ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা, বিক্রয় রশিদ প্রদান না করাসহ নানা অনিয়মে এক দোকানকে লাখ টাকা জরিমানা করা হলে মালিক সমিতি ও স্থানীয়রা সেই দোকানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা অভিযানে বাধা দেয়।


শনিবার (১৬ এপ্রিল) অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।


অভিযানের শুরুতেই বেনারশী পল্লীর মিতু কাতান শাড়ি ঘরে গিয়ে ম্যানেজারকে না পাওয়ায় আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়। ম্যানেজার এলে এই দোকানে যাচাই বাছাই করবে অধিদপ্তর।


এরপর তাওছিফ বেনারশী ফ্যাশনে যান অভিযানরতরা। সেখানে শাড়িসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ না করা, বিক্রয় রশিদ প্রদান না করা এবং সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। 


এ জরিমানার পর মালিক সমিতির নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযানরতদের ঘিরে ধরে। তারা অভিযানে থাকা সাংবাদিকদের ক্যামেরা জোরপূর্বক বন্ধ করার চেষ্টা করেন এবং চিৎকার চেচামেচি করতে থাকেন।


বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বলেন, বেনারশী পল্লীর মালিক সমিতি আছে, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর তাদের সঙ্গে কথা না বলে এখানে অভিযান পরিচালনা করতে পারে না। এছাড়া করোনার কারণে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তার ওপর ঈদের আগে এমন অভিযানে ব্যবসায়ীরা আরো ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন। 


এ সময় মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারসহ সংশ্লিষ্টরা। আলোচনা শেষে ব্যবসায়ীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে জরিমানা কমিয়ে দুই দোকানকে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা করা হয়।


এ প্রসঙ্গে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, প্রতি বছর ঈদের সময় ভোক্তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবং স্বার্থ রক্ষায় আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করি। ঈদে ভোক্তারা যাতে সুষ্ঠুভাবে কেনাকাটা করতে পারে তাই আজকে আমরা মিরপুর বেনারশী পল্লীতে অভিযান চালাই। এখানে দুটি প্রতিষ্ঠানে আমরা ঢুকে দেখেছি, শাড়ির মধ্যে তারা একটি কোড দিয়ে রেখেছেন, যার প্রেক্ষিতে তারা শাড়িটি কত টাকা দিয়ে কিনেছেন সেটা আমরা বালাম বইতে সঠিক পেয়েছি। কিন্তু শাড়িটা কত করে বিক্রি করছেন সেটা আমরা পাইনি। তাই আমরা বিক্রি রশিদ (পাকা রশিদ) দেখাতে বলেছি, কিন্তু তারা সেটাও দেখাতে পারেননি।


তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় ব্যবসায়ীদের বলি, আপনারা অবশ্যই ক্রেতাদের পাকা রশিদ দিবেন। সেই রশিদের মূল কপিটা ক্রেতা নিয়ে যাবেন এবং কার্বন কপিটা দোকানে থাকবে। তাহলে সরকারি যেকোনো সংস্থা এলে আপনারা দেখাতে পারবেন। কিন্তু আজকে এই মার্কেটে এসে আমরা দেখেছি, এখানে পাকা রশিদ ছাড়াই কেনা-বেচা চলছে। যা চলতে পারে না। পাকা রশিদ ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি আবশ্যিক বিষয়। পাকা রশিদ ছাড়া বেচা-বিক্রি করে আইনের ব্যত্যয় করায় আজকে আমরা দুটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়ীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি।


মনজুর শাহরিয়ার বলেন, আমরা সকল ব্যবসায়ীকে বলছি, সরকার কিন্তু কাউকে ধরা-ধরির জন্য নয়। করোনায় আপনারা যে দুঃসময় পার করেছেন, নিজের পকেট থেকে দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন দিয়েছেন এই বিষয়গুলো আমলে নিয়েই আমরা কাজ করছি। আমরা আর্থিক দণ্ড দেওয়ার জন্য আসিনি। আমরা আসি উন্নয়নটা যেন হয় সেজন্য। আমরা আজকে অনুরোধের প্রেক্ষিতে মাত্র দুটি দোকানে অর্থদণ্ড করলেও বেনারশী পল্লী দোকান মালিক সমিতি থেকে স্পষ্টভাবে বলে দিতে হবে সবাই যেনো পাকা রশিদ ব্যবহার করে। এছাড়া এই সপ্তাহে আমরা আমাদের অফিসে দোকান মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবো। আমরা চাই আমাদের ভোক্তারা যাতে হয়রানির শিকার না হয়।


ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন ঠিকমতো পালন হচ্ছে কিনা সেটি ব্যবসায়ীসহ সকলকে দেখতে হবে। আমরা যদি আইনের মধ্যে না থাকি আইন জাহিলিয়তের মতো হয়ে যাবে, অন্ধকার যুগের মতো। আমরা যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নে ব্যবসায়ীরাও সাড়া দিয়েছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তারা ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দিবেন। আমরাও আমাদের লিফলেটগুলো পাঠাবো। প্রয়োজনে আমরা সকল ব্যবসায়ীকে নিয়ে এখানে ছোট আঙ্গিকে মিটিং করবো। পাশাপাশি প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবো। কিন্তু কোনোভাবেই আইনের ব্যত্যয় করে ব্যবসা করা যাবে না।


বেনারশী পল্লী দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দিয়া শাড়ির স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম দূরবীন নিউজকেবলেন, আমরা যেহেতু এই দেশে থাকি, সরকারের সব আইন আমাদের মানতে হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে না। সরকারের যতটুকু রাজস্ব তা আমরা পুরোপুরি পরিশোধ করি। কিন্তু আমরা পাকা রশিদ রাখার বিষয়ে জানতাম না। এখন ওনারা (জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর) আমাদের জানিয়ে দিয়ে যাক, কী কী নিয়ম মানতে হবে। তারপর আমরা যদি সেসব নিয়ম না মানি, তাহলে আমরা যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।


জনপ্রিয়


আইন আদালত থেকে আরও পড়ুন

আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

শেরপুরে ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

শেরপুরে পৃথক দুটি মামলায় ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৪। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও পক্ষপাতমূলক তদন্তের অভিযোগ

ঢাকার পল্লবী থানায় দায়েরকৃত একটি সিআর মামলার তদন্তকে ঘিরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।