
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে টার্গেট করে বাজারে জাল টাকার নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে সক্রিয় সিন্ডিকেট। সম্প্রতি জাল টাকা তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় দলনেতা তাইজুল ইসলাম লিটনসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরি করা খুবই সহজ। এজন্য জাল নোট তৈরির কারবারিরা ঢাকা শহরকে খুবই নিরাপদ মনে করে থাকে। প্রথমে কয়েক মাসের জন্য বাসা ভাড়া নেয়। তারপর তাদের টার্গেট পূর্ণ হলে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়। তবে ঢাকায় তৈরিকৃত জাল টাকার নোট সীমান্ত এলাকার বাজারগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর লালবাগের বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে দলনেতা তাইজুল ইসলাম লিটনসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। অন্য তিন জন হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, আলী হায়দার ও মহসিন ইসলাম মিয়া।
গ্রেফতারদের মধ্যে লিটনের বাড়ি চাঁদপুর, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি নওগাঁ এবং আলী হায়দার ও মহসিন মিয়ার বাড়ি বরিশালে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও বেশ কিছু জাল রুপিও উদ্ধার করা হয়েছে। জাল টাকা ও রুপি তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, বিভিন্ন কালারের কালি, স্ক্রিন ফ্রেইম, বিশেষ ধরনের কাগজ, কেমিক্যাল, স্ক্যানার মেশিন, কাটার, স্কেল ইত্যাদি জব্দ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, জাল নোট তৈরিতে যা যা লাগে যেমন: কাগজ, সুতা, রং, কেমিক্যাল, জল ছাপের প্রিন্টার—সবই তাদের কাছে আছে। জল ছাপ দিয়ে কীভাবে নোট তৈরি করতে হয় তা তাদের জানা। বিশেষ ধরনের কাগজ কিনে জোড়া লাগানো, একটি কাগজে বঙ্গবন্ধু বা মহাত্মা গান্ধীর ছবি স্ক্রিন প্রিন্টিং বা জলছাপ দেওয়ায় বিশেষ পারদর্শী তারা।
তিনি আরও বলেন, লিটন বাহিনী জাল টাকা তৈরি করার পরে ১২ হাজার-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। জাহাঙ্গীর এবং মহসিন মূলত লিটনের কাছ থেকে জাল টাকা ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় কিনে সচরাচর ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা লাভে বিক্রি করে। জাহাঙ্গীর নওগাঁ, নাটোর, বগুড়াসহ দেশের উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চলের অনেকগুলো ডিলারের মাধ্যমে এসব জাল নোট বিক্রি করে থাকে।
জিজ্ঞাসাবাদে লিটন জানায়, শহরের ব্যস্ততম এলাকায় রেস্টুরেন্ট প্রসাধনী, পরিধেয় বস্ত্র ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় ভালো টাকার ভেতরে জাল টাকা ঢুকিয়ে দেয় তারা।
লিটন আরও জানায়, ১২ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে সে জড়িত। কামরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি নীলক্ষেতে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করার সময় পাসপোর্ট এডিটিংয়ের কাজ দিয়েছিল তাকে। সে কাজটি সঠিকভাবে করতে পারার পরে ওই ব্যক্তি তাকে জাল নোট তৈরির কাজের অফার দেয়। সেই থেকে জাল নোট তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করতে খরচ কত এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানায়, এক লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করতে মাত্র ৩ হাজার টাকা খরচ হয় তাদের। তবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা তা বিক্রি করেন তারা। বিভিন্ন হাত ঘুরে এসব জাল টাকা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বেশ কিছু ডিলার রয়েছে বলে জানায় লিটন।



