আইন আদালত
তনু হত্যার অর্ধযুগেও মেলেনি বিচার
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তের কোন অগ্রগতি হয়নি। বিচার না পাওয়ায় হতাশ তনুর পরিবার। রোববার (২০ মার্চ) তনু হত্যার ছয় বছর কেটে গেল।
মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানালেন, তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তনুর মৃত্যুবার্ষিকী এলেই সাংবাদিকরা খোঁজ-খবর নেন, আর কেউ খবর নেয় না। ডিএনএ রিপোর্ট আসতে ছয় বছর লাগার কথা না। আমরা বিচারের আশা করে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করেছি। এখন আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহর বিচার বড় বিচার।
তনুর মা বলেন, পিবিআইয়ে মামলা যাওয়ার পর আশা করেছিলাম, ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বদল ছাড়া আর কোনো আশার কথা শুনিনি এখনও। মামলার আর কোনো অগ্রগতিও নেই। কত দিন মেয়ের হত্যার বিচারের জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে, জানি না। মেয়ের বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনেকবার বিচার চেয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিলাম। জানি না, বিচার দেখে যেতে পারব কিনা।
কাঁদতে কাঁদতে আনোয়ারা আরও বলেন, রাত গভীর হলেই মনে হয়, আমার তনু যেন ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকছে- মা, আমি এসেছি; দরজা খোলো। কিন্তু পরে বুঝতে পারি- না, আমার তনু আর ফিরে আসবে না।
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, শুরুতে দেশজুড়ে আন্দোলনের সময় ভেবেছি দ্রুত বিচার পাব। কিন্তু ছয় বছরেও আমাদের আশা পূরণ হয়নি। আমরা গরিব মানুষ, তাই কোনো বিচার পাচ্ছি না। আজ তনুর জন্য স্থানীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কিছু এতিমদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছি।
গণজাগরণ মঞ্চের কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান জানান, তনু হত্যাকারীদের বিচারের আশায় আমরা রাজপথে টানা আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমরা কোনো বিচার পাইনি। একটি আলোচিত হত্যার শেষ পরিণতি এমন হবে ভাবতেই অবাক লাগে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সভাপতি এস এম রুবেল জানান, তনুর আত্মার শান্তি কামনা করে আমরা কলেজ থিয়েটারে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছি। তবে মামলার তদন্ত আর বিচার নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।
তনু হত্যা মামলাটি বতর্মানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে পিবিআইর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, সিআইডির পর আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর বেশি দূর এগুতে পরিনি। তবে আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডির পর বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ছয় বছরেও তনুর মৃত্যুর রহস্যের জট খোলেনি। সব মিলিয়ে ছয়বার বদলেছে তদন্ত কর্মকর্তা।
তনুর মরদেহ উদ্ধারের পর আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। একই বছরের গত ৪ এপ্রিল তনুর প্রথম ও ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। কিন্তু কোথাও তার মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারেননি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তাররা।
এর আগে মামলাটি থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করে। সর্বশেষ ২০২০ সালের নভেম্বরে কুমিল্লা সিআইডি থেকে মামলার ডকেট পিবিআই ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর তিন দফায় ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিসে আসেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক মজিবুর রহমান। ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কর্মরত। তখন তদন্ত দল তার সঙ্গে কথা বলার পর সেনানিবাসের ভেতর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তনুর মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকার পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তনুর পরিবার ও স্কুলের শিক্ষকসহ কয়েকজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে; মামলার নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা সিআইডি অফিসে তনুর ডিএনএ রিপোর্ট চেয়ে রিকোয়েস্ট লেটার দেওয়া হয়েছে। এখনও ডিএনএ রিপোর্ট হাতে আসেনি। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে তদন্তে হয়তো আরও অগ্রগতি হতে পারে।
জনপ্রিয়
আইন আদালত থেকে আরও পড়ুন
আমির হামজাকে গ্রেপ্তারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
জ্বালানি মন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: ড. ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ এনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

শেরপুরে ধর্ষণ ও মানবপাচার মামলার দুই আসামি গ্রেফতার
শেরপুরে পৃথক দুটি মামলায় ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৪। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও পক্ষপাতমূলক তদন্তের অভিযোগ
ঢাকার পল্লবী থানায় দায়েরকৃত একটি সিআর মামলার তদন্তকে ঘিরে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বাংলাদেশ পুলিশ বরাবর একটি বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

.jpg)







