আইন আদালত
গুলশানের ফ্ল্যাটটি ছিল অপরাধীদের সেফ হাউজ!
চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী অবশেষে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। গুলশান-১ নম্বরের ফিরোজা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ২৩ বোতল বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ, বেশ কিছু বিয়ার ও সীসার সরঞ্জামসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, এই ফ্ল্যাটটি বোতল চৌধুরীর না, এটা অন্য আরেক ব্যক্তির নামে নেয়া। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে ছিলেন পলাতক এই আসামি। ফ্ল্যাটের মালিক বোতল চৌধুরীর মত অভিজাত অপরাধীদের ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিতেন। সেটি অপরাধীদের আত্মগোপনের জন্য ব্যবহার হত।
প্রচুর টাকা ভাড়ার বিনিময়ে ফ্ল্যাটের মালিক অপরাধীদের সেখানে আত্মগোপনে থাকার এবং নানা ধরণের অনৈতিক কাজ করার সুযোগ করে দিতেন। ফ্ল্যাটটিতে মদের মিনি বারও গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে নানা ধরনের দেশি-বিদেশি মদের সংগ্রহ করে রাখা হত। ফ্ল্যাটটি যিনি অপরাধীদের কাছে ভাড়া দিতেন, তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন র্যাবের কর্মকর্তারা
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বোতল চৌধুরী দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন প্রকাশ্য। তিনি নিয়মিত রিজেন্ট এয়ারওয়েজের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে বিমানবন্দরের ভেতরে যাতায়াত করতেন। তার কাছে ছিল বিমানবন্দরের প্রবেশের ডিউটি পাসও, যেটি সংগ্রহ করার বিষয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) থেকে তদন্ত করা হয়। তারপরও কীভাবে এই অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন সেটি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রী-এমপি-ভিআইপিদের সান্নিধ্যে থাকার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমানসহ অনেক ভিআইপিদের সঙ্গে ছবি রয়েছে বোতল চৌধুরীর। তার বাংলাদেশ ও কানাডার আলাদা দুটি পাসপোর্ট রয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৮ মার্চ আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়। তার বাসা মিরপুর ডিওএইচএসে। তার পরিবার এখানে থাকেন না। ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পর তিনি ৩০ মার্চ গুলশানের এই ফ্ল্যাটে আত্মগোপন করেন। তার বাসা থেকে ২৩ বোতল মদ, বেশ কিছু বিয়ার ও সীসার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, সাথে আরও দুজন নারীকে আটক করা হয়েছে। দুই নারীর পরিচয় ও কী উদ্দেশে এ বাসায় ছিলেন, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।
১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানীর ক্লাব ট্রামসের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। এ হত্যা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশ ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
এ মামলায় কারাগারে আছেন তারিক সাঈদ মামুন ও হারুন অর রশীদ। আর পলাতক রয়েছেন আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সানজিদুল হাসান ইমন ও সেলিম খান।
জনপ্রিয়
আইন আদালত থেকে আরও পড়ুন
বিডিআর হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী আসামি হচ্ছেন
২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার নাম সাক্ষ্যে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায়, সবার কাছে মাফ চাইলেন সোহেল রানা
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভারে এসে উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ধসে পড়া আলোচিত রানা প্লাজার মালিক ও যুবলীগ নেতা সোহেল রানা। এ সময় সাভার মডেল থানার পুলিশ উপস্থিত ছিল।
.jpg)
চট্টগ্রামে নির্বাচনী সহিংসতায় এক দশকে ১১ খুন, একটিরও বিচার হয়নি
চট্টগ্রামে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত এক দশকে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার একটিরও বিচার এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। এতে হতাশ নিহতদের পরিবার ও বিচারপ্রার্থীরা।
.jpg)
সাগর–রুনি হত্যার ১৪ বছর: অন্তর্বর্তী সরকার কোনো কাজই করেনি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। আজ সেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ এই সময়ে সরকার বদলেছে, তদন্ত সংস্থা বদলেছে, কিন্তু মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে সাগর-রুনিকে
.jpg)
.jpg)
.jpg)






