লাইফস্টাইল
কানাডায় সর্বনিম্ন বেতন কত? ঘণ্টাপ্রতি মজুরি, আয় ও জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অনেক অভিবাসীর কাছেই স্বপ্নের দেশ কানাডা। কাজের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার কারণে দেশটি ইতোমধ্যে অভিবাসীদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে কানাডায় একজন মানুষের সর্বনিম্ন আয় কত? এই আয় দিয়ে সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করা সম্ভব কি না?
ঘণ্টাভিত্তিক নির্ধারিত মজুরি
কানাডায় বাংলাদেশের মতো দৈনিক বা মাসিক ভিত্তিতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় না। সেখানে সরকার প্রতি ঘণ্টার জন্য সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করে দেয়। কোনো প্রতিষ্ঠান এর কম বেতন দিলে শ্রম আইনের আওতায় কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।
কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটিতে রয়েছে ১০টি প্রোভিন্স এবং ৩টি টেরিটরি। প্রতিটি অঞ্চলের জীবনযাত্রার ব্যয় ভিন্ন হওয়ায় মজুরির কাঠামোও কিছুটা আলাদা।
এই মজুরি কাঠামো এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে একজন মানুষ তার মৌলিক জীবনযাত্রা নির্বাহ করতে পারে এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তাও পেতে পারে।
কর ব্যবস্থা ও সামাজিক সুবিধা
কানাডায় আয়ের পরিমাণ বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হলেও করের হারও তুলনামূলক বেশি। অনেক ক্ষেত্রে একজন কর্মীকে তার আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।
তবে এই করের বিনিময়ে সরকার নাগরিকদের বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করে। কেউ অসুস্থ হলে বা কাজ হারালে নির্দিষ্ট ভাতা পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকের মতে কানাডায় জীবনযাত্রা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল।
কাজের ধরন অনুযায়ী আয়
কানাডায় কাজের ক্ষেত্র সাধারণত চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। এ ক্যাটাগরি: ডাক্তার, প্রকৌশলীসহ উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাজীবী
বি ও সি ক্যাটাগরি: দক্ষ ও আধা-দক্ষ পেশা
ডি ক্যাটাগরি: কম দক্ষতার কাজ যেমন সেলসম্যান, ফুড ডেলিভারি, সহকারী কর্মী
সবচেয়ে কম বেতন সাধারণত ডি ক্যাটাগরির কাজগুলোতে পাওয়া যায়।
সর্বনিম্ন ঘণ্টাপ্রতি মজুরি
কানাডার সাসকাচুয়ান (Saskatchewan) প্রোভিন্সে ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি প্রায় ১৩ কানাডিয়ান ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৯০ টাকার কাছাকাছি।
যদি কেউ দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করেন, তাহলে তার আয় দাঁড়ায় প্রায় ৭,৯২০ টাকা। মাসে ২০ দিন কাজ করলে মোট আয় প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টাকার বেশি হতে পারে। অন্যদিকে নুনাভুট (Nunavut) প্রোভিন্সে ডি ক্যাটাগরির কাজে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি প্রায় ১৬ কানাডিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১,২২০ টাকা। এই হিসাবে দিনে ৮ ঘণ্টা এবং মাসে ২০ দিন কাজ করলে আয় প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।
কাজের নিয়ম ও শ্রম আইন
কানাডার শ্রম আইনে কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।
দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো আইনত শাস্তিযোগ্য
সপ্তাহে অন্তত একদিন ছুটি বাধ্যতামূলক
প্রতি ৫ ঘণ্টা কাজের পর অন্তত ৩০ মিনিট বিরতি দিতে হয়
এই নিয়মগুলো কর্মীদের কর্মপরিবেশকে আরও নিরাপদ ও মানবিক করে তুলেছে।
খরচের বাস্তবতা
তবে কানাডায় আয় বেশি হলেও জীবনযাত্রার খরচও তুলনামূলক বেশি। শহরভেদে একটি সাধারণ দুই রুমের বাসা ভাড়া ৮০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
এ ছাড়া একটি সাধারণ রেস্টুরেন্টে একবেলা খাবারের জন্য ৯ থেকে ২৫ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই ব্যয়বহুল হলেও সঠিকভাবে হিসাব করে চলতে পারলে অনেকেই মাসে ১ থেকে ২ হাজার ডলার পর্যন্ত সঞ্চয় করতে পারেন।
জনপ্রিয়
লাইফস্টাইল থেকে আরও পড়ুন
Apex স্টাইলে No.1, ঈদ ট্রেন্ডে ফ্যামিলি ফান
ঈদকে সামনে রেখে নতুন ক্যাম্পেইন ঘোষণা করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় জুতা ব্র্যান্ড Apex Footwear Limited। ‘স্টাইলে No.1, ঈদ ট্রেন্ডে ফ্যামিলি ফান’ শিরোনামের এবারের ঈদ আয়োজনের মূল আকর্ষণ পুরো পরিবারের জন্য ম্যাচিং কালেকশন।

যেসব খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
ইফতারে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে পেটের সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সারা দিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে এবং গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এজন্য একজন ব্যক্তির জীবনধারা, বয়স ও বিদ্যমান রোগ অনুযায়ী ব্যক্তিনির্ভর খাদ্য পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত।

ইফতারে মুড়িতে জিলাপি: এই বিতর্কের শেষ কোথায়?
জিলাপির ইতিহাস মুঘল আমল পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মেশানোর রীতি এসেছে পুরান ঢাকার ইফতার সংস্কৃতি থেকে এমন ধারণা অনেকের। চকবাজারের ইফতারে ঘিয়ে ভাজা বা শাহী জিলাপি মুড়ির সঙ্গে খাওয়ার চল বহু বছরের।
.jpg)
শীতের নিস্তেজ ত্বকে ফিরিয়ে আনুন হারানো লাবণ্য
শীতকাল মানেই নরম রোদ, শীতল বাতাস আর আরামদায়ক আবহ। তবে ত্বকের জন্য এই সময়টা বেশ চ্যালেঞ্জিং। বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় ত্বক দ্রুত তার স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারাতে শুরু করে। ফলাফল ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, ফ্যাকাশে ও নিস্তেজ। আয়নায় তাকালে অনেকেরই মনে হয়, ত্বক যেন ত
.jpg)

.jpg)






