সকালে ঘুম ভাঙার পর প্রথমেই ফোন হাতে নেওয়া এখন অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অ্যালার্ম বন্ধ করতে গিয়ে শুরু হয় মেসেজ দেখা, নোটিফিকেশন চেক করা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং। বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও, এটি শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও মানসিক প্রস্তুতিকে ব্যাহত করে। ফলে দিনের শুরুটাই হয়ে ওঠে অগোছালো ও চাপপূর্ণ।

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক জাগরণ প্রক্রিয়ায় বাধা

Sleep Inertia। এই সময় হঠাৎ অতিরিক্ত তথ্য গ্রহণ করলে মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে। এতে মনোযোগ কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।

citytouch 728-X-90

দিনের শুরুতেই স্ট্রেস হরমোন বৃদ্ধিCortisolহরমোনের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়, যা শরীরকে জাগিয়ে তোলে। কিন্তু ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ বা নেতিবাচক খবর দেখলে এই হরমোন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে উদ্বেগ, বিরক্তি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।

ডোপামিন নির্ভরতা ও মনোযোগের সমস্যাDopamineনিঃসরণ হয়, যা তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। ফলে দিনের শুরুতেই এই উদ্দীপনা পেলে মস্তিষ্ক দ্রুত আনন্দের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজের তুলনায় ফোন ব্যবহার বেশি আকর্ষণীয় মনে হয় এবং উৎপাদনশীলতা কমে যায়।

সময় ব্যবস্থাপনায় ব্যাঘাতকয়েক মিনিটের জন্য ফোন ধরলেও বাস্তবে তা দীর্ঘ সময় নিয়ে নেয়। এতে সকালের রুটিন যেমন ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর নাশতা বা কাজের প্রস্তুতি পিছিয়ে যায়। দিনের শুরুতে এই বিশৃঙ্খলা পুরো দিনের কার্যক্ষমতাকেই প্রভাবিত করে।

চোখ ও স্নায়ুর ওপর চাপঘুম থেকে ওঠার পর চোখ অন্ধকার পরিবেশে অভ্যস্ত থাকে। এই সময় হঠাৎ স্ক্রিনের উজ্জ্বল আলো চোখে চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি মস্তিষ্কও হঠাৎ অতিরিক্ত উদ্দীপনায় আক্রান্ত হয়, যা মাথাব্যথা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

অভ্যাস বদলানোর উপায়ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম ২০–৩০ মিনিট স্ক্রিন ফ্রি সময় রাখুন। অ্যালার্মের জন্য ফোনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আলাদা ঘড়ি ব্যবহার করতে পারেন। সকালে হালকা স্ট্রেচিং, পানি পান বা নিরিবিলি সময় কাটান। গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন ছাড়া বাকি নোটিফিকেশন সাইলেন্ট রাখুন।

দিনের শুরুটা মূলত মস্তিষ্ক ও শরীরের প্রস্তুতির সময়। এই সময়টিকে যদি স্ক্রিনের দখলে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা দিনের সামগ্রিক গতি ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।