জাতীয়
বিজেপির জয়ে ‘হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ আলোচনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার জেরে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দিয়েছে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ সেখানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরছেন।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দেখা যায়, “খেলা খতম”, “অভিনন্দন শুভেন্দু অধিকারী”—এমন স্লোগানের পাশাপাশি তাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। যদিও বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবুও এসব পোস্টে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
কিছু পোস্টে আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান এমন যে, তিনি বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন। এই ধরনের বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত না থাকলেও, সমর্থকদের মধ্যে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক আবেগ কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এই বিষয়টি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই অনেকে সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, “যে শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে, তাকে আমরাও সমর্থন করি।”
এদিকে কিছু পোস্টে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেখানে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, এমনকি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর কথাও বলা হচ্ছে। যদিও এসব বক্তব্য পুরোপুরি সমর্থকদের নিজস্ব মতামত, তবুও এগুলো একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম তার এক ফেসবুক পোস্টে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সামগ্রিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আঞ্চলিক কৌশল এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দেওয়া এই প্রতিক্রিয়াগুলো সরাসরি রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন না হলেও, আঞ্চলিক রাজনীতির পারস্পরিক প্রভাব ও জনমতের একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে চূড়ান্তভাবে বলা যায়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবির পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা কূটনৈতিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত অনলাইন আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয়
জাতীয় থেকে আরও পড়ুন
চীন বা ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন অথবা ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সম্ভাব্য এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক মহলে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়কে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসন্ন ঈদুল আজহায় সড়ক, মহাসড়ক, রেলপথ ও নৌপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। সড়ক-মহাসড়ক ও রেললাইনের ওপর কোনোভাবেই কোরবানির পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঈদ সামনে রেখে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে যেসব পণ্য
কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ঈদের এখনো কিছুটা সময় বাকি থাকলেও মসলা, শুকনো ফল ও রান্নার উপকরণসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশের কারসাজি ও অতিমুনাফার প্রবণতায় ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে এসব পণ্যের দাম, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরা বাজারে। ফলে ঈদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ।

ইউনূস সরকারের কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের সার্বিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। রিটে ওই সরকারের সময়ে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়ন, সংস্কার কমিশন গঠন এবং দেশি-বিদেশি চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।









