জাতীয়


বিজেপির জয়ে ‘হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ আলোচনা


দুরবীন ডেস্ক

দুরবীন ডেস্ক

প্রকাশিত:০৫ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার

বিজেপির জয়ে ‘হাসিনার প্রত্যাবর্তন’ আলোচনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনার জেরে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দিয়েছে ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি অংশ সেখানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরছেন।

ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে দেখা যায়, “খেলা খতম”, “অভিনন্দন শুভেন্দু অধিকারী”—এমন স্লোগানের পাশাপাশি তাকে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ সম্বোধন করে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। যদিও বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবুও এসব পোস্টে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

কিছু পোস্টে আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থান এমন যে, তিনি বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারেন। এই ধরনের বক্তব্যের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত না থাকলেও, সমর্থকদের মধ্যে এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়ার পেছনে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক আবেগ কাজ করছে। বিভিন্ন সময়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন—এই বিষয়টি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কাছে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই অনেকে সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, “যে শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে, তাকে আমরাও সমর্থন করি।”

এদিকে কিছু পোস্টে রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেখানে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, এমনকি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর কথাও বলা হচ্ছে। যদিও এসব বক্তব্য পুরোপুরি সমর্থকদের নিজস্ব মতামত, তবুও এগুলো একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতা এএফএম বাহাউদ্দিন নাসিম তার এক ফেসবুক পোস্টে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সামগ্রিকভাবে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, ভারতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আঞ্চলিক কৌশল এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দেওয়া এই প্রতিক্রিয়াগুলো সরাসরি রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন না হলেও, আঞ্চলিক রাজনীতির পারস্পরিক প্রভাব ও জনমতের একটি ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

তবে চূড়ান্তভাবে বলা যায়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবির পক্ষে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা কূটনৈতিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত অনলাইন আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।


জনপ্রিয়


জাতীয় থেকে আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষাই পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক সম্পর্কের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো ঐতিহ্যগত অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহ, পূর্ব ও মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা এবং ল্যাটিন আমেরিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

প্রবাসীদের পাসপোর্ট ফি কমানোর প্রস্তাব পর্যালোচনায় সরকার

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্ট ফি কমানোর একটি প্রস্তাব সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য পাসপোর্টসেবা আরও সহজ, দ্রুত ও সহজলভ্য করতে একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

৫ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীতের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কর ফাঁকি রোধে কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা, রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং কর ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।