.jpg&w=3840&q=75)

জাতি গঠন (Nation Building) কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া প্রক্রিয়া নয়; এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সম্মিলিত চেতনার দীর্ঘ পথচলার ফল। একটি জনগোষ্ঠী কখন নিজেকে “আমরা” হিসেবে চিনতে শেখে এবং সেই পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় সেখানেই জাতি গঠনের মূল সাফল্য নিহিত।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, জাতি গঠন কখনো স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং এটি সচেতন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার ফল। ইউরোপে আধুনিক জাতি-রাষ্ট্রের ধারণা বিকশিত হয় মূলত ওয়েস্টফালিয়া চুক্তি (১৬৪৮) পরবর্তী সময়ে। ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব জাতি গঠনের একটি ক্লাসিক উদাহরণ। বিপ্লবের আগে ফরাসি জনগণ ছিল মূলত রাজা ও ভূখণ্ডকেন্দ্রিক; বিপ্লবের পর ভাষা, নাগরিকত্ব ও সমতার ধারণার মাধ্যমে “ফরাসি জাতি” একটি রাজনৈতিক পরিচয়ে রূপ নেয়।
অন্যদিকে, জার্মান জাতি গঠনের পথ ছিল ভিন্ন। উনিশ শতকের আগে জার্মানি ছিল বহু ক্ষুদ্র রাজ্য ও প্রিন্সিপ্যালিটির সমষ্টি। ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য থাকলেও রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। বিসমার্কের নেতৃত্বে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জার্মান জাতি গঠন সম্পন্ন হয়। এই উদাহরণ দেখায়, কখনো সংস্কৃতি আগে আসে, কখনো রাষ্ট্র তবে জাতি গঠন সবসময়ই বহুমাত্রিক।
উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতি গঠনের অভিজ্ঞতা আরও জটিল। ভাষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য উপেক্ষা করে কেবল ধর্মকে জাতির ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করানো টেকসই হয়নি। এর ফলই ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
বাংলাদেশের জাতি গঠন প্রক্রিয়া একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এখানে ভাষা ছিল জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তা রাজনৈতিক রূপ পেতে শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সেই জাতিসত্তাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে প্রতিষ্ঠিত করে। এটি প্রমাণ করে যে, ভাষা ও সংস্কৃতি জাতি গঠনের ক্ষেত্রে কতটা শক্তিশালী উপাদান হতে পারে।
তবে জাতি গঠন কেবল স্বাধীনতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; স্বাধীনতার পর জাতি গঠন আরও কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি কাজ। অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি, ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা এবং সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ নিশ্চিত না হলে জাতি গঠন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আফ্রিকার অনেক দেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও অভ্যন্তরীণ জাতিগত বিভাজনের কারণে শক্তিশালী জাতি গঠন করতে পারেনি নাইজেরিয়া বা সুদানের উদাহরণ এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও জাতি গঠনের চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জাতি গঠনের অপরিহার্য শর্ত। জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নিজেকে সমান মর্যাদার অংশ মনে করে।
জাতি গঠন কোনো একক মুহূর্তের ঘটনা নয়; এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ইতিহাস, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রীয় নীতির সম্মিলনে জাতি গড়ে ওঠে। যে জাতি তার বৈচিত্র্যকে শক্তিতে রূপ দিতে পারে, সেই জাতিই দীর্ঘস্থায়ী হয়। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়জাতি গঠনের ভিত্তি যদি জনগণের বাস্তব পরিচয় ও চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা ইতিহাসের গতিপথও বদলে দিতে পারে।
বি. এম. হাসান মাহমুদ, লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক
ওজনে কারচুপি, মাছে কেমিক্যাল ও রং মেশানো, চিংড়িতে জেলি দিয়ে ওজন বাড়ানো এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
শুধুমাত্র বেসিক বেতন থাকে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ চাকরির শুরুতে বেসিক বেতন হবে ১১ হাজার টাকা, এরপর সময়ের সাথে সাথে বেড়ে দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন (২৭)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ) শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি।
কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবন ও ব্যবহারের অপরাধে মো. ফারুক নামে এক ব্যক্তির এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সাতক্ষীরার জেলার, তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
তাই বর্তমানে এখন অনেকেই মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ, তাদের বেতন, এবং মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হতে কি কি যোগ্যতা লাগে, সেসব সম্পর্কে জানতে ভীষণ আগ্রহী। আর তাদের জন্যই আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
অন্যান্য বাহিনীর মতো বাংলাদেশ ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সেও বিভিন্ন পদ রয়েছে। এরমাঝে একদম মাঠ পর্যায়ের পদগুলোর নাম হচ্ছে ফায়ার ফাইটার, ডুবুরী, নার্সিং এটেন্ডেন্ট ইত্যাদি। এই তিন পদের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে সাজানো হয়েছে আজকের প্রতিবেদন।