রাজনীতি


খালেদার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৬ মার্চ ২০২২, ০২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার

খালেদার আবেদন আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে আবেদন করেছে পরিবার। খালেদা জিয়ার পরিবারের ওই আবেদন মতামতের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


বুধবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের একটা পত্র আমরা পেয়েছি। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে যে পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হবে সেখানে পাঠাবো আমরা।


খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আগামী ২৪ মার্চ শেষ হবে। এই অবস্থায় কয়েক দিন আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার জন্য তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ আবেদন করেন।


বুধবার সকালে খালেদা জিয়ার সাজা বোন সেলিমা ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। পা ফুলে গেছে। কোমরে ব্যথা, পিঠে ব্যথা আছে। তার এখনও কোনো কিছুই ঠিক হয়নি।


খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে ব্যাপারটি উল্লেখ আছে বোধ হয়। চিকিৎসার জন্য তার বিদেশে যাওয়া খুবই দরকার। কিন্তু সরকার অনুমতি না দিলে কীভাবে যাবে। সেটাই হচ্ছে কথা।


গত ১৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সেখানে তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসের কথা জানান মেডিকেল বোর্ড। গত ১ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান তিনি।


এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুই দফা হাসপাতালে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। ৭৬ বছর বয়সী এ সাবেক প্রধানমন্ত্রী অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।


দুটি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।


একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।


২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে সরকার শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়ার শেষ হয়ে আসলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। এরপর ২৫ মার্চ থেকে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ায় সরকার।



জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যু’ পরিস্থিতি তৈরি করছে বিএনপি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানে ‘ক্যু পরিস্থিতি’ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান।

সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন নিতে গিয়ে তোপের মুখে কনকচাঁপা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে সমালোচনা ও প্রশ্নবাণের মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা।

সংসদে বিলের কপি পেতে দেরি, ‘না বুঝে হ্যাঁ বা না বলা অপরাধ’ বলে ক্ষোভ বিরোধীদলীয় নেতার

জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময় বিলের কপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে হাতে না পাওয়ায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিলটি পাসের আগমুহূর্তে টেবিলে নথিপত্র দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, না বুঝে কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নৈতিকভাবে অপরাধ।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল বিএনপি: রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি জনমতের প্রতিফলন?

জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি এখন আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।