রাজনীতি


বাংলাদেশের নেত্রী হয়ে বাংলার ঐতিহ্যকে যেভাবে ধারণ করছেন শেখ হাসিনা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ অক্টোবর ২০২২, ১২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার

বাংলাদেশের নেত্রী হয়ে বাংলার ঐতিহ্যকে যেভাবে ধারণ করছেন শেখ হাসিনা

বিভিন্ন দেশের অন্য আট-দশজন প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে কিছুটা ব্যতিক্রম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্তমানে বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যতই দিন যাচ্ছে বাড়ছে তাঁর ব্যস্ততাও। কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে আজও তিনি একেবারে ফিট।

শাড়ি পরতে পছন্দ করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সে সব শাড়ি খুব দামি হতে হবে, তেমনটা নয়। খুব সাধারণ সুতি শাড়ি পরেন তিনি।

সাধারণ পোশাক-আশাক, চলাফেরায় চিরাচরিত গাম্ভীর্যতা নেই, কিন্তু তা স্বত্বেও প্রবল ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে তার মধ্যে।

মূলত তিনি পোশাক আর সাজসজ্জাতে পুরোদস্তুর সাধারণ বাঙালি হয়ে একাই পরিচালনা করছেন গোটা দেশ।

একবার সংসদে তিনি নিজের সাধারণ জীবনযাপন প্রসঙ্গে বলেন, ক্ষমতায় এসে কোন ব্রান্ডের পরবেন আর কোন ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে চলবেন তা ভাবেননি কখনো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সপ্তাহের একেকদিন একেক রঙের শাড়ি পরেন। এক্ষেত্রে শুক্রবারে যদি উজ্জ্বল সোনালি বা রুপালি রং হয় তবে শনিবারে নীল রঙের শাড়ি পরেন।

বলা হয় জামদানি বাংলাদেশের নিজস্ব কাপড়। তাই প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোষাকের তালিকায় জামদানি শাড়িকেই বেশি অগ্রাধিকার দেন।

অধিকাংশ সময়েই তিনি অপূর্ব সুন্দর ডিজাইন আর চোখ জুড়ানো সব জামদানি পরে বিশ্বের সামনে একে দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।

সংসদে, মন্ত্রী পরিষদের মিটিং-এ, রাষ্ট্রীয় বা অন্য অনুষ্ঠানে, রাজনৈতিক জনসভায়, বিদেশী অতিথিদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামদানি ছাড়া অন্য শাড়ি কমই পরেন তিনি।

এমনকি কিছুদিন আগে ভারতে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরেও প্রায় সবটা জুড়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামদানি শাড়ি পরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

শুধু তাই নয়, কখনও কখনও সময়, স্থান, উপলক্ষের সাথে মিল রেখেও শাড়ি পরেন তিনি। স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে দেখা যায় লাল-সবুজের শাড়ি গায়ে।  

আবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে পরেন সাদা-কালো আর নারী দিবসে পরেন বেগুনি জামদানি। তাতেই বোঝা যায় উনি মন থেকে জামদানিকে গ্রহণ করেছেন এবং এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছেন বহুগুণ।

প্রধানমন্ত্রীর পরনের জামদানি শাড়িগুলো একবার দেখলে চোখ ফেরানো যায় না। বিদেশীরা পর্যন্ত চোখ ফেরাতে পারেন না। জামদানি ছাড়াও সাধারণ বাঙালি তাঁত, কাতান এবং সিল্কের শাড়িও পরেন প্রধানমন্ত্রী।

শাড়িতে ফুটে ওঠে বাঙালি নারীর আসল রূপ। গোটা পৃথিবীর কাছেও বাঙালি নারীর পোশাক হিসেবে শাড়িই সুপরিচিত। বাঙালিয়ানার এই বৈশিষ্ট্যের শতভাগ পূর্ণতা দেখা যায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পোশাকেই।

বাংলাদেশের নেত্রী হয়ে বাংলার ঐতিহ্যকেই ধারণ করছেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'যখন যেখানে যাই, আমার নিজের দেশের যেটা আছে সেটাই ব্যবহার করি। 

নিজের দেশকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। দেশের পণ্যটা মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করি। দেশের পণ্য যাতে ভালো বাজার পায় সেই চেষ্টা আমি করি।'

ফ্যাশন বা যুগের চলন-বলন নিয়ে ততোটা চিন্তিত নন তিনি। এক হাতে সবসময় একটি ঘড়ি, আরেক হাতে চুড়ি থাকে তার।

আবার কখনো গলায় মুক্তার মালা, কখনো কানে থাকে খুব ছোট একজোড়া দুল। এর পাশাপাশি শাড়িতে মাঝেমাঝে নৌকার আদলে তৈরি পিন ব্যবহার করেন তিনি।

শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে থ্রিকোয়ার্টার হাতার ব্লাউজ আর মাথায় সবসময় থাকে একটা ঘোমটা। সব মিলিয়ে মূলত হাস্যোজ্জ্বল ও পরিপাটি একজন মানুষ তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় খুব একটা অবসর না পেলেও সেখান থেকেও কিছুটা সময় বের করে নেন শেখ হাসিনা। রান্না করতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি।
এছাড়া বই পড়াও তার পছন্দের। এই অভ্যাস পেয়েছেন মা-বাবার কাছ থেকেই।

মূলত সাদামাটা পোশাক, অনাড়ম্বর জীবনযাপন আর সাবলীল প্রকাশ ভঙ্গি, সব মিলিয়ে ব্যক্তিত্বে সবার আইডল তিনি।



জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।