রাজনীতি


আবারও শেখ হাসিনা আ.লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার

আবারও শেখ হাসিনা আ.লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে ১০ম বারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা এবং তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের।



আজ  রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচিত হন তারা। এই কাউন্সিলে অংশ নেন প্রায় ৭ হাজার কাউন্সিলর এবং ১৪ হাজার প্রতিনিধি।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার টানা ১০ম বারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন।

অপরদিকে, ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদকের পদ পান ওবায়দুল কাদের। ২১তম কাউন্সিলে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। ২২তম জাতীয় সম্মেলনে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি।

এদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখা যায়। তার সঙ্গে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীরাও জাতীয় সংগীতে সুর মেলান।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন: শেখ সেলিম

পরে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী পর্বে শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করেন দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া। সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ওবায়দুল কাদের।

সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় বিকেল ৩টায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এ অধিবেশনেই দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়। এ সময় দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন আটজন। এরমধ্যে বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ১০ বার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়া মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুবার এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও আবদুল মালেক উকিল একবার করে সভাপতি নির্বাচিত হন। আর সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন একবার নির্বাচিত হয়েছেন দলের আহ্বায়ক। এছাড়াও মহিউদ্দিন আহমেদ দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন: প্রথম অধিবেশনের মূলপর্ব শুরু

এদিকে, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন নয়জন। সবচেয়ে বেশি চারবার করে হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিল্লুর রহমান। এছাড়া তাজউদ্দীন আহমদ ও ওবায়দুল কাদের তিনবার এবং আবদুর রাজ্জাক, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী দুবার করে এবং প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ও আবদুল জলিল একবার করে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার রোজগার্ডেনে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরে ১৯৫৫ সালের তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে সব ধর্ম-বর্ণের প্রতিনিধি হিসেবে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নাম করা হয় আওয়ামী লীগ।

শুরু থেকেই মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসা নেতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন দলটিতে। প্রভাবশালী বা অভিজাত হিসেবে পরিচিতরা সেভাবে আসেননি এ দলে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত দলটির ২২টি নিয়মিত জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।















জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।