রাজনীতি


আ. লীগের মনোনয়ন চান যেসব সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ নভেম্বর ২০২৩, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

আ. লীগের মনোনয়ন চান যেসব সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
ভোট আসছে। চায়ের দোকানে আড্ডা বেড়েছে। উৎসুক জনতা থেকে রাজনীতিবিদ, সবার মনোযোগ এখন নির্বাচন ঘিরে। যারা প্রার্থী হতে চাচ্ছেন, তারা ইতোমধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এরমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা রাজনীতির মাঠে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকার কেবল রাজনীতিবিদ নয়; ব্যবসায়ী, পেশাজীবি থেকে শুরু করে সাবেক আমলা, পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পাওয়ার আশা করছেন অন্তত দুই ডজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি ও সাবেক এসপি রয়েছেন।

এরমধ্যে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান এমপি ও সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ আবারও মনোনয়ন চান দলের। তবে, তার তার প্রতিদ্বন্দ্বীও সাবেক আরেক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি হলেন আবদুল কাহার আকন্দ। যিনি পুলিশের সাবেক ডিআইজি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলা, বিডিআর বিদ্রোহ মামলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আলোচিত তিনি।

সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকও মনোনয়ন চান নৌকার। তিনি শরীয়তপুর-১ আসন থেকে প্রার্থী হতে চান। শহীদুল হক কমিউনিটি পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রবর্তক। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সাল পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

জামালপুর-১ আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান। নৌকার হয়ে ভোটযুদ্ধে লড়তে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বিএনপির আমলে চাকরি হারানো মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় কর্মরত সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুর রহিমও নৌকার মনোনয়ন চান। ময়মনসিংহ-৮ আসনে গতবারও মনোনয়ন চেয়ে জোটের কারণে বঞ্চিত হন। বিএনপি-জামায়াত সরকার ২০০১ সালে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ টিমে যোগ দেন তিনি।

বগুড়া-৫ আসনের বর্তমান এমপি মো. হাবিবর রহমানও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা। বিএনপির আমলে চাকরি হারান সাবেক এই এসপি। রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা হাবিবর রহমান এবারও মনোনয়ন চান।

সাবেক আইজিপি মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। তবে তিনি যেচে মনোনয়ন চাইবেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়েও না পাওয়ায় অভিমান করে রয়েছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টা।

সাতক্ষীরা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী হতে চান সাবেক এএসপি শেখ আতাউর রহমান। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য এবং কালীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগ ও ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা।

মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার দেওয়া মাহবুব উদ্দিন বরিশালে নৌকায় মনোনয়ন চান। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পুলিশের চাকরি হারান তিনি।

সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আব্দুর রহিম খান বাগেরহাট-৪ আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া সাবেক অতিরিক্ত আইজিপিদের মধ্যে নুরুল আলম, আলী ইমাম চৌধুরী, খন্দকার মোজাম্মেল হক, গোলাম মোস্তফা, আবদুল মান্নান, সাবেক ডিআইজি দেওয়ান হাবিবুল্লাহ, সফিক উল্লাহ, খন্দকার সাহেব আলী, কাজী নজরুল ইসলাম, মোখলেসুর রহমান ও শাহ আলম সিকদারসহ অন্তত দুই ডজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান।

সম্পর্কিত

আওয়ামী লীগ

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।