রাজনীতি


রাষ্ট্র সংস্কারের সংলাপে ডাক না পাওয়ায় আমরা বিব্রত: জি এম কাদের


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৩ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার

রাষ্ট্র সংস্কারের সংলাপে ডাক না পাওয়ায় আমরা বিব্রত: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনায় জাতীয় পার্টিকে অন্তর্ভুক্ত না করায় তারা বিব্রত। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি একটি পুরোনো দল, যার রয়েছে দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা। তবুও রাষ্ট্র সংস্কারের সংলাপে তাদের না ডাকা দলের জন্য অপমানজনক হলেও আপত্তি নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, দলের বিরুদ্ধে বাইরে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
রংপুরের পল্লী নিবাসে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এইচ এম এরশাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিসরে জাতীয় পার্টি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলকে এক ধরনের অবহেলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগের সর্বশেষ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমাদের দোসর বলা হচ্ছে কারণ আমরা আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই জানে, আমরা নির্বাচনে যেতে চাইনি, একপ্রকার জোর করেই আমাদের অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছিল।” জি এম কাদের অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনের সময় জাতীয় পার্টির উপর হামলা, মামলা ও দলের অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি জানান।
জি এম কাদের আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায়। সরকারকে বিশাল প্রত্যাশার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়, কিন্তু আমি আশাবাদী যে, তারা সফল হবেন। আমাদের উচিত সরকারকে আরও কিছু সময় দেওয়া।"
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় দেশের উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে এবং বর্তমান সরকারকেও তাদের প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে। জি এম কাদের পরিষ্কারভাবে বলেন, "জাতীয় পার্টি সরকারকে সহযোগিতা করবে।" তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যদিও তাদের দল রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় বাদ পড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম ইয়াসীর, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন লেবু, মহানগর জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি লোকমান হোসেন, এবং সহসভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তারা সবাই এই সাক্ষাতে কাদেরের বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং দলীয় একতা বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
জি এম কাদেরের এই বক্তব্য জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জাতীয় পার্টির মতামত ও ভূমিকা উপেক্ষা করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড

সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।