রাজনীতি


আমরা গণতন্ত্র ফেরত চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই’ — মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ অক্টোবর ২০২৫, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার

আমরা গণতন্ত্র ফেরত চাই, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই’ — মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য, একমাত্র কথা—আমরা গণতন্ত্র ফেরত চাই। নির্বাচিত পার্লামেন্ট চাই। নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেটা চাই।’
আজ শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ স্মৃতি সংসদ’-এর আয়োজনে কাপাসিয়া সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, হান্নান শাহ ছিলেন একজন অকৃত্রিম রাজনৈতিক নেতা ও জনগণের প্রতিনিধি। কঠিন সময়েও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছি প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ সরকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। প্রফেসর ইউনূস সেটি ঠিক করার চেষ্টা করছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই সরকার শতভাগ নিরপেক্ষ থাকবে। উপদেষ্টামণ্ডলীর কারও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জনগণ শুনতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়।’
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছা অনুযায়ী সরকার কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারেক রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ৩১ দফা কর্মসূচি দিয়েছেন। আজ সরকারের পক্ষ থেকে যে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে, তার সবকিছুই আমাদের ৩১ দফার মধ্যে রয়েছে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আর অপেক্ষা নয়, এখন নির্বাচনের রাস্তায় গাড়ি উঠে গেছে। এই গাড়িকে শেষ পর্যন্ত চালিয়ে নিতে হবে। ধানের শীষে ভোট দিন, তাদের পরাজিত করুন যারা বারবার বাংলাদেশকে ভুল পথে নিয়েছে। যেন তারা আর কখনো ক্ষমতায় ফিরতে না পারে।’
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ওমর ফারুক, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ছাইয়েদুল আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক এস এম রফিকুল ইসলাম ও প্রয়াত হান্নান শাহর ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান।
সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে মরহুম আ স ম হান্নান শাহর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ছিলেন।

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পুরোনো স্বৈরাচার থেকে শিক্ষা না নিলে একই পরিণতি হবে: এনসিপি

টেলিভিশন সাংবাদিকদের শোকজ নোটিশ প্রদান এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এমডি মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে পুরোনো স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা না নিলে নতুন স্বৈরাচারকেও একই পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. খলিলুর রহমানকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। তার এ নিয়োগে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেই বিস্ময় ও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলও বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছে।