রাজনীতি
জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন
.webp)
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে গেলে এনসিপিকে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন এই অবস্থান তুলে ধরেন। যখন এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে, একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে ঠিক সেই সময়েই তিনি প্রকাশ্যে নিজের মত জানান।
এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এই সদস্য লেখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই একটি নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন, অবস্থান এবং অতীত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এনসিপির মূলনীতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ফলে এমন একটি দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা জোট এনসিপির জন্য মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর সামনের সারির তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে—এমন আলোচনার মধ্যেই দলে অস্থিরতা শুরু হয়। এই সমঝোতার বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলের পরিচিত মুখ তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও মীর আরশাদুল হক। তারা তিনজনই এনসিপির ঘোষিত ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকায় ছিলেন। শুধু তাই নয়, দলের অন্তত ৩০ জন নেতা সম্ভাব্য জোট নিয়ে নীতিগত আপত্তি জানিয়ে দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন তার পোস্টে আরও বলেন, এনসিপির জন্মই হয়েছে একটি আলাদা রাষ্ট্রচিন্তা ও আদর্শকে সামনে রেখে। বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচন এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এনসিপির রাজনীতি, যাকে তারা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ হিসেবে দেখছে। এসব মৌলিক বিষয়ে যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রের সঙ্গে অভিন্ন অবস্থান থাকা বাধ্যতামূলক। জামায়াতের সঙ্গে এই অবস্থানগত মিল নেই বলেই তিনি মনে করেন।
তিনি দাবি করেন, অতীতে জামায়াত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার দাবিতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার ভূমিকা রেখেছে। সে সময় এনসিপির আহ্বায়ক নিজেই বলেছিলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে কোনো জোট সম্ভব নয়। সেই নীতির ভিত্তিতেই জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এবং সারা দেশ থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থী আহ্বান করেছিল।
পোস্টের শেষাংশে সামান্তা শারমিন স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং তিনি এতদিন ধরে এনসিপির যে রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও আদর্শ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে, সেটিকেই সঠিক মনে করেন এবং নিজেকে সেই আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে দেখেন। বিএনপি বা জামায়াত যেকোনো একটি দলের সঙ্গে জোট করাই এনসিপির ঘোষিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রশ্নে সামান্তা শারমিনের এই প্রকাশ্য অবস্থান এনসিপির ভেতরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
যুবদলের জরুরি সভায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের তর্কাতর্কি, বৈঠক পণ্ড
সদ্য ঘোষিত যুবদলের নির্বাহী কমিটিতে নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা করতে ডাকা জরুরি সভায় সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের মধ্যে তর্কাতর্কির ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বৈঠকের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় সভা স্থগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ফারুক খানের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী আমিনুলকে পদোন্নতি দিল বেবিচক
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে সুপারিনটেনডেন্ট পদে পদোন্নতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের একটি অংশের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতা মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে: সাইফুল হক
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ‘পুশ ইন’ তৎপরতার ফলে সীমান্ত এলাকায় মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি দাবি করেছেন, শিশু ও নারীসহ কয়েকশ মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিয়ে বিএসএফ চরম অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে এনসিপির অভিযোগ, ‘ক্রিকেটকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে’
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার দাবি করেছেন, দেশের ক্রিকেটকে দুর্বল করে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি বিদেশি প্রভাবও কাজ করছে।








