রাজনীতি


জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার

জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে কড়া অবস্থান নিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে গেলে এনসিপিকে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতে বড় মূল্য দিতে হতে পারে।

 

রোববার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন এই অবস্থান তুলে ধরেন। যখন এনসিপির ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে, একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে ঠিক সেই সময়েই তিনি প্রকাশ্যে নিজের মত জানান।

 

এনসিপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের এই সদস্য লেখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনোভাবেই একটি নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র নয়। জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন, অবস্থান এবং অতীত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এনসিপির মূলনীতির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ফলে এমন একটি দলের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা জোট এনসিপির জন্য মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের পর সামনের সারির তরুণদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এনসিপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার পথে এগোচ্ছে—এমন আলোচনার মধ্যেই দলে অস্থিরতা শুরু হয়। এই সমঝোতার বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন দলের পরিচিত মুখ তাসনিম জারা, তাজনূভা জাবীন ও মীর আরশাদুল হক। তারা তিনজনই এনসিপির ঘোষিত ১২৫ আসনের প্রার্থী তালিকায় ছিলেন। শুধু তাই নয়, দলের অন্তত ৩০ জন নেতা সম্ভাব্য জোট নিয়ে নীতিগত আপত্তি জানিয়ে দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী সামান্তা শারমিন তার পোস্টে আরও বলেন, এনসিপির জন্মই হয়েছে একটি আলাদা রাষ্ট্রচিন্তা ও আদর্শকে সামনে রেখে। বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণপরিষদ নির্বাচন এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই এনসিপির রাজনীতি, যাকে তারা ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ হিসেবে দেখছে। এসব মৌলিক বিষয়ে যেকোনো রাজনৈতিক মিত্রের সঙ্গে অভিন্ন অবস্থান থাকা বাধ্যতামূলক। জামায়াতের সঙ্গে এই অবস্থানগত মিল নেই বলেই তিনি মনে করেন।

 

তিনি দাবি করেন, অতীতে জামায়াত সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থার দাবিতে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার ভূমিকা রেখেছে। সে সময় এনসিপির আহ্বায়ক নিজেই বলেছিলেন, যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সঙ্গে কোনো জোট সম্ভব নয়। সেই নীতির ভিত্তিতেই জুলাই পদযাত্রার পর এনসিপি ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এবং সারা দেশ থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থী আহ্বান করেছিল।

 

পোস্টের শেষাংশে সামান্তা শারমিন স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা মানেই বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেওয়া এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বরং তিনি এতদিন ধরে এনসিপির যে রাজনৈতিক অবস্থান, নীতি ও আদর্শ দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে, সেটিকেই সঠিক মনে করেন এবং নিজেকে সেই আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে দেখেন। বিএনপি বা জামায়াত যেকোনো একটি দলের সঙ্গে জোট করাই এনসিপির ঘোষিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

সব মিলিয়ে, জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রশ্নে সামান্তা শারমিনের এই প্রকাশ্য অবস্থান এনসিপির ভেতরের রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।


সম্পর্কিত

এনসিপিসামান্তা শারমিনজামায়াত ইসলামী

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি।