রাজনীতি


নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ‘ফ্যাসিস্ট’ আ.লীগ নেতা একরামুজ্জামান, বিএনপিতে ফেরার ঘোষণা


খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ‘ফ্যাসিস্ট’ আ.লীগ নেতা একরামুজ্জামান, বিএনপিতে ফেরার ঘোষণা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আলোচিত ‘পলাতক’ আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে যাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় একরামুজ্জামান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। ভিডিওটি তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। পরে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

একরামুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সেখানে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নির্দেশেই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আমার লোকজনকে পাঠানো হয়েছে। আমি আবারও বিএনপিতে ফিরছি।

 

Related posts here

 

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তিনি ওই সময় ‘পলাতক’ থাকায় নিজে উপস্থিত ছিলেন না। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার মামলার আসামি হয়েও তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিভিন্ন থানায় একরামুজ্জামানের বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার ঘটনায় নাসিরনগর উপজেলা বিএনপি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানায়।

 

নির্বাচন কার্যালয় ও রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, একসময় একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন দলটির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।

 

পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর উপস্থিতিতে নাসিরনগর উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন একরামুজ্জামান।

 

সবশেষ ঘোষণায় আবারও বিএনপিতে ফেরার দাবি তুললেও তার এই অবস্থান পরিবর্তন ও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।


সম্পর্কিত

আওয়ামী লীগএকরামুজ্জামানবিএনপি

জনপ্রিয়


রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

জামায়াত আমিরের পোস্ট: কী লিখলেন ডা. শফিকুর রহমান?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে ঘিরে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এবার এ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আমার কিছু হলে এর দায় ভরসা ও বিএনপিকে নিতে হবে: আখতার হোসেন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনের হারাগাছে প্রথম সফরে যাচ্ছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তার এই সফরকে ঘিরে হারাগাছে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পৌর বিএনপি। এতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে এগিয়ে যারা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাগে ৫০টির মধ্যে ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন আসতে পারে। নির্বাচন কমিশন রমজান মাসের মধ্যেই এ নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনের পর অন্তত ১৫ জেলায় খুলেছে আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বাড়ছে রাজনৈতিক আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এসব কার্যালয় খুলে দিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।