রাজনীতি
সংসদে বিলের কপি পেতে দেরি, ‘না বুঝে হ্যাঁ বা না বলা অপরাধ’ বলে ক্ষোভ বিরোধীদলীয় নেতার

জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময় বিলের কপি ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে হাতে না পাওয়ায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বিলটি পাসের আগমুহূর্তে টেবিলে নথিপত্র দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, না বুঝে কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নৈতিকভাবে অপরাধ।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, কোনো বিল পাসের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ সদস্যদের কাছে নথিপত্র পৌঁছানোর কথা। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তত এক দিন আগে তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিলটি যখন পাসের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখন তাদের টেবিলে নথিপত্র রাখা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় নেতা কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমরা তো সবাই অর্থনীতির ছাত্র নই যে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই সব বুঝে ফেলব। দ্রুত এই জটিল বিষয়গুলো বুঝে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। দুর্বল ছাত্র হওয়ার কারণে হাত তুলব না নামাব, তা বুঝতে পারিনি। না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলা যেমন অপরাধ, ‘না’ বলাও সমান অপরাধ। এই নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা নীরব থেকেছি।”
সরকারি দলের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “তারা হয়তো অত্যন্ত মেধাবী এবং সবাই অর্থনীতির ছাত্র, তাই মুহূর্তেই সব বুঝে ফেলেছেন। কিন্তু আমাদের এই অক্ষমতার কথা স্বীকার করছি। এখন আমাদের জন্য আপনারাই পরামর্শ দিন আমরা কী করব।”
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে যখন এই বিলগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তখন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন বিল পাসের পর ‘কিছুই বুঝলাম না’ বলাটা সমীচীন নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশেষ কমিটিতে এমন কোনো কথা হয়নি যে সংসদ চলাকালীন একেবারে শেষ মুহূর্তে নথিপত্র দেওয়া হবে। সংসদ সদস্যদের বিল নিয়ে কথা বলার অধিকার থাকা উচিত।
বিতর্কের মুখে আইনমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি মেনেই সরকার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উপস্থাপনের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সরকার তা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে। আইনমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন, যে বিলগুলো উপস্থাপিত হয়েছে সেগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই পাস হয়েছে এবং এতে কোনো আইনি ত্রুটি নেই।
জনপ্রিয়
রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল রাখল বিএনপি: রাজনৈতিক সমীকরণ নাকি জনমতের প্রতিফলন?
জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি এখন আইন হিসেবে কার্যকর হওয়ার পথে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি জানালেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন কারা পাবেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি জোটের মনোনয়ন নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এ অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজপথে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেত্রীরাই মনোনয়নে অগ্রাধিকার পাবেন।

‘জামায়াতের দুঃখ আমির হামজা, এনসিপির দুঃখ নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শফিকুর রহমান: ‘সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করব’
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটের রায় অমান্য করা হলেও তারা গণভোটের ফল বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তিনি সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।


.jpg)






