টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সাফল্য পেতে বিসিবি বাংলাদেশ দলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
স্কোয়াডের পর এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে কোচিং প্যানেলেও।
টি-টোয়েন্টি দলের টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভারতীয় শ্রীধরন শ্রীরাম।
ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে তার চুক্তি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছে আগামী রবিবারের মধ্যেই কাজে যোগ দেবেন তিনি।
এছাড়া রাসেল ডোমিঙ্গোকে টি-টোয়েন্টি দলের কোচিং থেকে বাদ দেয়ার গুঞ্জন উঠেছে বেশ কয়েকদিন আগে থেকে। টিম ম্যানেজম্যান্টের চোখে এই প্রোটিয়া কোচকে পুরোপুরি আক্রমনাত্বক মনে হয় না।
আর তাই এশিয়া কাপে ডোমিঙ্গোকে বাদ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ২২শে আগস্ট ডোমিঙ্গোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাসেল ডোমিঙ্গোর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন সে-ই তালিকায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়েছে জেমি সিডন্সের নাম। একসময় বাংলাদেশের হেড কোচের দায়িত্বে থাকলেও বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ব্যাটিং বিভাগে।
আবার রাসেল ডোমিঙ্গো বাদ পড়লে হয়তো ভারতের শ্রীধরন শ্রীরামকেও বেছে নেয়া হতে পারে কোচ হিসেবে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কাজ করার সুবাধে এশিয়া কাপের ভেন্যু আরব আমিরাতের সাথে ভাল পরিচয় আছে শ্রীধরনের।
মূলত এই কারনে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্টে তাঁর উপর ভরসা রাখছে বাংলাদেশ। অবশ্য এই কোচের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেনি বিসিবি। আপাতত এশিয়া কাপের জন্যই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে।
তবে এই টুর্নামেন্টে ভালো করলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও থাকবেন শ্রীরাম।
২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ভারত জাতীয় দলের হয়ে আটটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন শ্রীধরন শ্রীরাম।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেটার হিসেবে তেমন খ্যাতি অর্জন না করলেও তামিলনাড়ুর এ ক্রিকেটারের ঘরোয়া রেকর্ড দুর্দান্ত। রঞ্জি ট্রফিতে এক মৌসুমে রেকর্ড ১০৭৫ রান করেছেন তিনি।
তবে কোচ হিসেবে অনেক বেশি অভিজ্ঞ এই ভারতীয়। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ ডেরেন লেহম্যান এর সাথে অজিদের স্পিন কোচ হিসাবে নিয়োগ পান তিনি।
এর আগে ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়া 'এ' দলের ভারত সফরে হেড কোচের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাকে। আবার ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফরেও টিমের সাথে ছিলেন।
২০১৯ সালে অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কোচিং স্টাফের অন্যতম সদস্য করা হয় তাঁকে। একই বছরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং ও স্পিন কোচ হিসেবে নিয়োগ পান শ্রীরাম।
কোচ কিংবা টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট যে-ই পরিচয়ে বাংলাদেশ দলে শ্রীধরন শ্রীরামকে দেখা যাক, তাঁর জন্য দায়িত্বটা একই থাকবে।
বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে শক্তিশালী করে তুলতে টেকনিক্যালি কাজ করবেন তিনি।
তাছাড়া শ্রীধরন শ্রীরামের পাশাপাশি নতুন দায়িত্বে দেখা যাবে জেমি সিডন্সকে। পাওয়ার হিটিং কোচ হিসেবে আরব আমিরাতের বিমান ধরবেন তিনি।
বর্তমানে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে সাকিব মুশফিকদের পাওয়ার হিটিং নিয়ে কাজ করছেন সিডন্স।
যদিও বিসিবি নতুন পাওয়ার হিটিং কোচ আনতে আগ্রহী, তবে আপদকালীন সময়ের জন্য সিডন্সকেই যোগ্য মনে কর হয়েছে এই পদের জন্য।
বাংলাদেশ দল এশিয়া কাপে কেমন করে সেটার উপর মূলত নির্ভর করে শ্রীরাম এবং সিডন্সের ভবিষ্যৎ।
এই দুইজনের পারফরম্যান্স এবং কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে এশিয়া কাপের টিম হোটেলে থাকবেন স্বয়ং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। একই সাথে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসও যাবেন সেখানে।
যদি শ্রীধরন শ্রীরামকে টি২০ কোচ করা হয়, তবে রাসেল ডমিঙ্গোকে শুধুমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে দল সামলাতে হবে।
এশিয়া কাপ চলাকালে ঢাকায় মুমিনুল হকদের নিয়ে কাজ করতে হবে টাইগারদের প্রধান কোচকে।