আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ।
আগামী ২০ নভেম্বর কাতার ও ইকুয়েডরের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছ ।
সমগ্র বিশ্বজুড়েই যেন ছড়িয়ে পড়েছে এই আমেজ। ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফা বিশ্বের সেরা দলগুলো নিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন করে।
শ্রেষ্ঠত্বর লড়াইয়ে যে এগিয়ে থাকে, বিজয়ের স্মারক হিসেবে সেই দলকে দেয়া হয় সোনালী ট্রফি। আর তাই ফুটবলপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই ট্রফি।
সোনায় মোড়ানো সোনালী ট্রফি জিতে নেবে কোন দল তা নিয়ে ইতোমধ্যই ফুটবল প্রেমী মানুষের নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
ভক্তদের মধ্যে অনেকেই সোনালি ট্রফি হাতে হাস্যোজ্বল মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নিজ দেশের ফুটবলারদের ছবি আঁকা শুরু করে দিয়েছেন।
কিন্তু স্বপ্নের বিশ্বকাপ ট্রফি সরাসরি দেখার সৌভাগ্য হয় না অনেকেরই।
তবে এবার ফুটবল প্রেমীদের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ট্রফি দেখার এক অভিনব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন কাতারের স্থানিয় বাসিন্দা হামাদ আল সুওয়াইদি।
তিনি বিশ্বকাপ উপলক্ষে সোনালি ট্রফি না হলেও দর্শকদের জন্য পাথরের রেপ্লিকা ট্রফি তৈরি করেছেন।
কাতারের ব্যবসায়ি হামাদ জানান, দেশটির সেরা ভা’স্কর দ্বারা এটি তৈরি করা হয়েছে। পাথরের রেপ্লিকা ট্রফির পরিপূর্ণ রূপ দিতে তাদের সর্বমোট দুই বছর সময় লেগেছে।
৫ টন ওজনের পাথরের এ ট্রফির উচ্চতা প্রায় তিন মিটার। যেটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেপ্লিকা ট্রফি বলে দাবি করছেন হামাদ আল সুওয়াইদি।
আপাতত তার বাড়ির উঠানে এটি শোভা পেলেও হামাদ নিজ বাড়ির শোভাবর্ধনের জন্য এটি তৈরি করাননি। তার রেপ্লিকা ট্র’ফি বানানোর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো মানুষ যেন বিশ্বকাপের সময় এটি দেখতে পারে।
এ সম্পর্কে হামাদ বলেন, 'আমি এটা আমার বাড়িতে রাখতে চাই না। আমি চাই সবাই যেন এটা দেখার সুযোগ পায়। আশা করছি, বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় কাতারের সুন্দর সুন্দর দর্শনীয় ভেন্যুগুলোতে এটা প্রদর্শণ করা হবে।'
কোটি কোটি মানুষ দীর্ঘ ৪ বছর ধরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য। ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই যেন এক উন্মাদনা, যে উন্মাদনার শুরুটা হয় ট্রফির বিশ্বভ্রমণের মাধ্যমে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপকে ঘিরেও এ আয়োজনের ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। কোকাকোলার আয়োজনে চলতি বছরের ১২ মে দুবাই থেকে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণ শুরু হয়।
এরই অংশ হিসেবে ৮ জুন মাত্র ৩৬ ঘণ্টার জন্য পাকিস্তান ভ্রমণ শেষে ট্রফিটিকে আনা হয় বাংলাদেশে। ৬ দশমিক ১ কেজি ওজনের এই ট্রফিতে ১৮ ক্যারেটের পাঁচ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে।
কাচঘেরা ট্রফিটির দেখা সবাই পেলেও ফিফার নির্দিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা, বিশ্বকাপজয়ী দলের খেলোয়াড় এবং সেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়া আর কারো এটিকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ নেই।
বিমানবন্দরে এটি দেখার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখেই বোঝা যায় একটি সোনালী ট্রফিকে ঘিরে ফুটবল প্রেমীদের কতোটা উন্মাদনা।
এর পূর্বেও বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফির আগমন হয়েছিল। তবে ২০১৩ সালে আসা সেই ট্রফি ছিল আসল ট্রফির রেপ্লিকা।