বিপিএল নিয়ে অন্যরকম স্বপ্ন দেখছে জাতীয় দলের বাইরে থাকা খেলোয়াড়েরা। এখানে ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারলে কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য জাতীয় দলের দরজা হয়তো আবার খুলে যেতে পারে।
তাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন রুবেল হোসেন। ২০১১, ১৫, ১৯- এই তিন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন সারথীর বড় নাম ছিলেন তিনি।
তার চোখেই পেস ইউনিটে স্বপ্ন দেখতো গোটা বাংলাদেশ। অথচ বছর দুয়েকের ব্যবধানে রুবেল এখন ভুলতে বসা স্মৃতি।
ফর্ম ও ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে আছেন এ তারকা পেসার। সবশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২০২১ সালের নিউজিল্যান্ড সফরে।
বাস্তবতা বলছে, তরুণ প্রেসারদের ভিড়ে এ বছর ভারতে বসতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপেও রুবেলের থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তবে এত সহজেই হাল ছাড়তে নারাজ বাগেরহাটের এই ক্রিকেটার। তাইতো জিমে ঝরিয়েছেন মেদ, ফিরেছেন মাঠের অনুশীলনে। মনোযোগের পুরোটা এখন আসন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টকে ঘিরে।
এবারের বিপিএলে সিলেট স্ট্রাইকার্সের হয়ে খেলবেন রুবেল হোসেন। নিজেও জানেন নির্বাচকদের নজরে আসতে তার বল হাতে জ্বলে উঠা ভীষণ জরুরি।
একসময় সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ব্যাটিং টাইগারদের অনেক ম্যাচ জিততে সহায়তা করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রান আসছে না তার সেই ব্যাটে।
আন্তর্জাতিক বা ঘরোয়া ক্রিকেটে কোথাও প্রত্যাশিত রান করতে পারছেন না তিনি। এমনকি রান করতে না পারায় ঘরোয়া ক্রিকেটে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছিল তাকে।
বারবার সুযোগ পেয়েও ব্যর্থতার বৃত্তেই আটকে আছেন। তবে নিজেকে ফিরে পেতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন সৌম্য।
এবারের বিপিএলে ঢাকা ডমিনেটরসের হয়ে পারফর্ম করে আবারও জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাব্বির রহমানের অভিষেকটা হয়েছিলো বেশ দাপটের সঙ্গেই।
তার আগমনে দীর্ঘদিনের চাহিদার একজন হার্ড হিটার পেয়েছিলো বাংলাদেশ।
২০১৪ সালে অভিষেক হওয়ার পর থেকে একাদশে ছিলেন ‘অটোমেটিক চয়েজ’। তবে এসেছিলেন যেমন নক্ষত্রের আলো হয়ে, তেমনি চলেও গেলেন ধুমকেতুর গতিতে।
অফ ফর্ম আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের কারণেই দীর্ঘদিন জাতীয় দল থেকে বাইরে রাখা হয় তাকে। প্রায় তিন বছর পর স্কোয়াডে ঢুকানো হলেও ফেরাটা রাঙাতে পারেননি এ ক্রিকেটার।
তবে এবার সব বিতর্ককে ঝেড়ে ফেলতে চান 'ব্যাড বয়' তকমা পাওয়া সাব্বির। তাই বিপিএল হতে পারে তার জন্য ফিরে আসার বড় সুযোগ।
এবারের বিপিএলে খুলনা টাইগার্সের হয়ে মাঠে নামবেন ৩১ বছর বয়সী এই হার্ড হিটার ব্যাটার। কামব্যাক করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন তিনি।
জাতীয় দলের অবহেলিত ক্রিকেটার বলা হয় ইমরুল কায়েসকে। সারা বছর নিজেকে প্রস্তুত রাখলেও ডাক আসেনা ন্যাশনাল টিমে।
বলা যায় ফেরার লড়াই করতে হয়েছে পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে। তাই নিজেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে ‘দুর্ভাগা’ ক্রিকেটার হিসেবেও দাবি করেন তিনি।
তবে জাতীয় দলে সুযোগ না হলেও বিপিএল আসলেই ভূমিকা নেন। তিনবার চ্যাম্পিয়নের খেতাব পাওয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের দুটো শিরোপা ঘরে ওঠে ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বেই।
ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব প্রশংসা কুড়ালেও পর্দার আড়ারেই যেন থেকে যান ইমরুল। তাই এবারের বিপিএলকে নিজের জন্য একটা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে নিয়েছেন তিনি।
যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার সাম্প্রতিক ফর্ম খুব একটা সুবিধার নয়। তবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন নিয়মিত। নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আবারো লাল-সবুজ জার্সিতে ফেরার স্বপ্ন দেখেন তিনি।