বহুদিন ধরেই গবেষণাগারে কৃত্রিম মাংস তৈরীর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। ইতিমধ্যে সফলও হয়েছেন তারা। তবে এখনও সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠেনি।
সুখবর হলো, এবছরই মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে গবেষণাগারে তৈরী কৃত্রিম মাংস। স্বাদ এবং গন্ধে সাধারণ মুরগীর মাংসের মতো হলেও, তা মুরগী থেকে আসেনি।
এই মাংস তৈরী করতে কোনো পশুপাখি লালন-পালন করতে হয়নি। কেবলমাত্র সত্যিকারের মুরগীর দেহকোষ থেকে, টিস্যুকালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে, এটি উৎপাদন করা হয়েছে।
তাই বলে খাদ্যের পুষ্টিমানে পিছিয়ে নেই। গত বছরের নভেম্বরে আমেরিকার খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা, এই মাংসকে খাওয়ার জন্য নিরাপদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
আর কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপ- আমেরিকার রেস্তোরাঁয় স্বাদ নেয়া যাবে। ২০২৮ সাল নাগাদ সুপার মার্কেটগুলোতে কিনতে পাওয়া যাবে কৃত্রিম মুরগীর মাংস।
এগুলো তৈরী করেছে আমেরিকা ভিত্তিক কোম্পানি আপসাইড ফুডস। এর জন্য প্রথমে সুস্থ-সবল একটি মুরগীর কাছ থেকে কিছু পরিমাণ দেহকোষ সংগ্রহ করেছে তারা।
এরপর কারখানায় বড় বড় স্টীলের ট্যাংকে, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও পুষ্টি উপাদান সরবরাহের মাধ্যমে, মুরগীর কোষ থেকে তৈরী হয়েছে মাংস।
মাত্র ১৮-২৪ ঘন্টার মধ্যে, ট্যাংকের ভেতরেই প্রাণি কোষ গুলো বৃদ্ধি পেয়ে সংখ্যায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। এজন্য কোনো মুরগী জবাইয়ের প্রয়োজন পড়েনি।
আগামী কয়েক বছরের মধ্যে, মাংসের বাজারে বড় অংশ দখল করবে গবেষণাগারে উৎপাদিত মাংস। আপসাইড ফুড ছাড়াও আরও বেশকিছু কোম্পানি এই খাতে প্রচুর গবেষণা করছে।
এর মধ্যে ইট জাস্ট একটি। কোম্পানিটির তৈরী কৃত্রিম মাংস সবার আগে, ২০২০ সালে অনুমোদন পেয়েছিল। তাদের তৈরী চিকেন নাগেটস সিঙ্গাপুরের রেস্তোরাঁ গুলোতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বর্তমানে, পরিবেশ সচেতন মানুষেরাও এধরণের মাংস খেতে বেশি আগ্রহী। এর মাধ্যমে অনেক নিরামিষ ভোজীরাও আসল মাংসের স্বাদ নিতে পারবেন।
এজন্য বাণিজ্যিকভাবে পশুপাখি পালনের প্রয়োজন হবেনা। তাদের লালন পালনের জন্য যে পরিমাণ জায়গা দরকার হতো, সেটিও আর লাগছেনা।
পূর্বের তুলনায় ৯৯ শতাংশ কম কৃষিজমি ও ৯৬ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করে এমন মাংস উৎপাদন করা যাচ্ছে। জমিগুলো কৃষিকাজ ও মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
ভবিষ্যতে একই উপায়ে গরু, ছাগল এবং অন্যান্য পশু-পাখির মাংস উৎপাদনের চিন্তা করছে কোম্পানিগুলো। ফলে, পূর্বে যে পরিমাণ গ্রীণ হাউস গ্যাস পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ত, তার পরিমাণ অনেক কমে যাবে।
উৎপাদনে তুলনামূলক কম পরিবেশ দূষণ হওয়ার কারণে, এধরণের মাংসকে ক্লিন মিট নামে ডাকা হচ্ছে।
এখন কোম্পানিগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ক্লিন মিটের দাম কমানো। আগের তুলনায় অনেক কমলেও, খামারে বড় হওয়া মুরগীর তুলনায় দামী এটি।
দিন দিন কোম্পানিগুলো এধরণের মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগের। সবমিলিয়ে, ক্লিন মিট মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতর আসতে, আরও কয়েকবছর সময় লাগবে।
তবে, এটিই প্রচলিত মাংসের একমাত্র বিকল্প নয়। ইতিমধ্যেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ব্যবহার করে মাংস তৈরী করা হয়েছিল। সেগুলোও স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধে সত্যিকার মাংসের মতোই।
ধারণা করা হচ্ছে আগামী এক দশকের মধ্যে, বিকল্প মাংসের বাজার ১৪০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বৈশ্বিক মাংস চাহিদার কমপক্ষে ১০ শতাংশ পূরণ করবে এগুলো।