কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছে হারলো মেসি এবং নেইমার জুনিয়র! ঘরের মাঠে আবারো স্বপ্ন ভঙ্গ পিএসজির! বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে করুন পরাজয় বরন করলো পিএসজি!
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগের রাউন্ড অব সিক্সটিনে ঘটলো এই দূর্ঘটনা! শুরু থেকেই পিএসজির জার্সিতে মেসি-নেইমার খেললেও, পুরো ম্যাচ জুড়ে আক্রমণাত্বক খেলেছে মিউনিখ!
চোটের কারনে আগেই শোনা গিয়েছিল মাঠে নামবেননা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু বিরতির পর দলের প্রয়োজনে চোট নিয়েই খেলতে নামেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের পুরোটা সময় এই তিন তারকাকে কড়া পাহাড়ায় রেখেছিলো জার্মান চ্যাম্পিয়নsra.. ফলে এখন আশঙ্কায় পড়েছে পিএসজির বহুদিনের চ্যাম্পিয়নস লীগ স্বপ্ন।
প্যারিসে এদিন শুরু থেকেই গোছানো খেলা উপহার দেয় বায়ার্ন। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ডিবক্স থেকে পিএসজির গোলমুখে শট নেয় জার্মান ক্লাবটি।
বরাবরের মত এদিন ও ট্র্যাডিশনাল জার্মান হাই প্রেসিং ফুটবল খেলেছে তারা। তাদের এই ট্যাকটিসের সামনে থিতু হতে কিছুটা সময় লাগে মেসি-নেইমারদের।
তাই প্রথমার্ধে কিছুটা চাপের মুখে পড়ে পিএসজি। এ সময় দলটি বাধ্য হয়ে কিছুটা ডিফেন্সিভ খেলে। এবং কাউন্টার -এটাকে খেলার নিয়ন্ত্রন নেওয়ার চেষ্টা করে।
এই কৌশলে শুরুতেই মেসি একাধিকবার প্রবল আক্রমণ তৈরি করলেও নেইমারকে কড়া মার্কিং এ রাখায় বায়ার্ন রক্ষণের আশপাশে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে সেই প্রচেষ্টাগুলো।
অবশ্য ফিনিশিং নিয়ে ভুগেছে বায়ার্ন মিউনিখও। একাধিকবার চান্স তৈরি করলেও ভালো ফিনিশারের অভাবে প্রথমার্ধে পিএসজিকে বিপদে ফেলতে পারেনি তারা।
ম্যাচের সাতাশ মিনিটে অসাধারন একটি সেইভ করেন প্যারিস ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস। নিষ্প্রভ প্রথমার্ধে একটি ফ্রি-কিক পেয়েছিলো প্যারিস বাহিনী।
কিন্তু সেই স্পট কিক বাইরে মারেন মেসি। গোলশুন্য প্রথমার্ধ শেষ হলেও দ্বিতীয় ভাগের শুরুতে সাইডলাইনে গা গরম করতে দেখা যায় কিলিয়ান এম্বাপ্পেকে।
তবে এই ফরাসি তারকা মাঠে নামার আগেই কাজের কাজটা করে ফেলে বায়ার্ন। আলফানসো ডেভিসের মাপা ক্রসে দারুণ এক ভলিতে গোল করেন কিংসলে কোমান।
গোল খেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ৫৭ মিনিটে এমবাপ্পেকে মাঠে নামান পিএসজি কোচ ক্রিস্টফার গালতিয়ের। তবে আক্রমন ভাগের এই জুটিতে একদমই সমন্বয় হচ্ছিলো না।
নিজেদের মধ্যে একাধিক ভুল পাসে উলটো দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়ে যায় বায়ার্ন। কিন্তু চুপো মটিংএর ভুলে এবারে রক্ষা পায় প্যারিসিয়ানরা।
এরপর অবশ্য গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন এম্বাপ্পে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে গোল করতেহন ব্যার্থ তিনি। ফিরতি বলে গোল করতে পারেননি নেইমারও।
শেষ প্রচেষ্টায় এমবাপ্পে গোল করলেও তা বাতিল হয় অফসাইডে। তবে এরপর খেলায় কিছুটা হলেও ফিরে আসে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইন।
ম্যাচের শেষ মুহুর্তে, নেইমার, মেন্ডি এবং এমবাপ্পের অসাধারন প্রচেষ্টায় গোল পায় তারা। কিন্তু শেষ ভিএআর VARএর সহয়তায় রেফারি গোল বাতিল করে অফসাইডের বাঁশি বাজান।
ফলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসি বাহিনীকে। তবে ঐ যে শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। এখনো সুযোগ রয়েছে মেসি-নেইমারের পিএসজির! পরের লিগে বায়ার্নকে হারাতে হবে তাদের হোম গ্রাউন্ডে।
কাজটা অনেক কঠিন কিন্তু পিএসজি তো ভরসা রাখতেই পারে তাদের আক্রমনভাগের উপর। কিন্তু দলটিকে উন্নতি করতে হবে নিজেদের মাঝ মাঠে।
রাতের অন্যখেলায় শক্তিশালী টটেনহ্যামকে হারিয়েছে এক সময়ের ইটালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান।