কথা ছিল খেলবেন লিটন, কলকাতার মাটিতে দেখাবেন নিজের ব্যাটিং ক্লাস, তার আর হলো কই? বাংলাদেশি ভক্ত সমর্থকদের আশাহত করে কলকাতা ম্যানেজম্যান্ট আবারো ভরসা করলো আফগান ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজের উপর।
পর পর দুইটি ম্যাচ বেঞ্চে বসে থেকে এখনো ওভিষেক হলো না বাংলাদেশি ড্যাশিং ওপেনার লিটন দাসের। আর লিটন বিহীন কলকাতা আরো একটি পরাজয়ের স্বাদ পেলো মুম্বাইয়ের বিপক্ষের ম্যাচে।
এখনো পর্যন্ত কলকাতা ম্যানেজম্যান্ট ওপেনিং পজিশনে পাঁচ ম্যাচে চার ওপেনার খেলিয়েছেন। ওপেনিং ব্যর্থতা ঢাকতে একপ্রান্তে তিনজন ভারতীয় ওপেনার খেলে ফেললেও অপরপ্রান্তে স্থির ছিলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তবে একটি মাত্র ম্যাচ ছাড়া ধারাবাহিকভাবেই ওপেনিং পজিশনে ব্যর্থ আফগান এই ওপেনার।
গতকালও মুম্বাইয়ের বিপক্ষে আগে ব্যাট করতে নেমে কলকাতার হয়ে ১২ বল খেলে ৮ রানে আউট হয়েছেন গুরবাজ। ওপেনিং এ নেমে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যে এমন পারর্ফম্যান্স এখন রীতিমতো ক্রাইম, এটা এখন সবাই মানেন।
গুরবাজ ক্রিজে ছিলেন পাওয়ারপ্লে’র শেষ ওভার পর্যন্ত, কিন্তু মুম্বাইয়ের বোলারদের আগ্রাসনের তোপে কিছুই করতে পারেন নি। বরং দলকে ফেলেছেন চাপে।
অন্যদিকে আরেক ওপেনার নারায়ন জগদীশন ৫ বল খেলে করেছেন শূন্য রান।
ওপেনিং পজিশনে দুই ব্যাটারের এমন হতশ্রী পারর্ফম্যান্সই কলকাতাকে চাপে ফেললেও এই চাপ থেকে বের হয়ে কলকাতার হয়ে ১৫ বছর পর সেঞ্চুরি তুলে নেন ব্যাটার ভেন্টাকেশ আইয়ার।
২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম বছরের প্রথম ম্যাচে কলকাতার জার্সি গায়ে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ব্রেন্ডন ম্যককলাম। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৫ বছর, কিন্তু কলকাতার পক্ষে এতো বছরেও কেউ আর সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেন নি।
ম্যাককলামের পর ভেন্টাকেশ আইয়ার সেই সেঞ্চুরির খরা কাটালেন। ৫১ বলে ১০৪ ইনিংস সাজালেন ৬ চার ও ৯টি ছয়ে। স্ট্রাইকরেটটাও ২০০ এর উপরে যা টি-টোয়েন্টি আদর্শ বলাই যায়।
তবে আইয়ার একপ্রান্ত আগলে রাখলেও বাকি ব্যাটাররা তাঁকে সঠিক সঙ্গ দিতে পারেন নি। বরং আসা যাওয়ার মিছিলে ছিলেন।
শেষ দিকে আন্দ্রে রাসেলের ১১ বলের ২১ রানের ক্যামিও ইনিংসের উপর ভর করে ১৮৫ রানের লড়াকু পুঁজি পায় কলকাতা।
১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট টপকাতে গিয়ে শুরুতেই কলকাতার বোলারদের উপর চড়াও হন ওপেনার ইশান কিষাণ ও ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নামা আরেক ওপেনার হিটম্যান রোহিত শর্মা। ১৩ বলে ২০ রান করে যখন রোহিত সুয়েশ শর্মার বলে আউট হন, ততক্ষণে ৪ দশমিক ৫ ওভারে মুম্বাইয়ের সংগ্রহ ৬৫ রান।
রোহিত আউট হয়ে গেলেও ইশান কিষাণ তুলে নেন ফিফটি। দলীয় ৮৭ রানে ভরুণ চক্রবর্তীর বলে কট বিহান্ডে আউট হন ইশান, তবে বাকি কাজটা করেন ভারপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন সূর্যকূমার যাদব। তাঁর ২৫ বলে ৪৩ রানের উপর ভর করেই মুম্বাই জয়ের ভিত্তি পেয়ে যায়।
শেষ দিকে তিলক ভর্মা ও টিম ডেভিডের ঝড়ো ব্যাটিং এ মুম্বাই ১৭ দশমিক ৪ ওভারেই ৫ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় মুম্বাই।