ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত টাইগার উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম। দলগুলো হলো- বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগ। কিন্তু একটির হয়েও শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগে দল পেলেও সেখানে খেলেননি। এবার খেলেন জিম আফ্রো টি-১০ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে জোহানেসবার্গ বাফেলোসের হয়ে। সুযোগ এসেছিল শিরোপা ছুঁয়ে দেখার। কিন্তু জিততে পারেনি তার দলও। ছিলেন না ফাইনাল ম্যাচের একাদশেও। প্রতিপক্ষ ডারবান কালান্দার্সের কাছে হারতে হয়েছে ৮ উইকেটে। তাই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে শিরোপা–খরা আর কাটানো হয়নি টাইগার উইকেটকিপার-ব্যাটারের।
শনিবার (২৯ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মুশফিককে ছাড়াই খেলতে নামে জোহানেসবার্গ বাফেলোস। নির্ধারিত ১০ ওভারে ১২৮ রান সংগ্রহ করে তারা। জবাবে ৪ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ডারবান কালান্দার্স।
সেমিফাইনালেও ইউসুফ পাঠানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ফাইনালে সুযোগ না পেলেও জিম-আফ্রোর প্রথম আসরে মুশফিক গড়েছেন ‘অবিশ্বাস্য’ রেকর্ড। ৮ ম্যাচের মধ্যে ৬ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে সংগ্রহ করেন ১২৬ রান। ৬ ইনিংসের মধ্যে মাত্র একটি ইনিংসে আউট হওয়ায় মুশফিকের ব্যাটিং গড় ১২৬! দশ ওভারের ক্রিকেটে একজন মিডল অর্ডার ব্যাটারের এমন গড় রীতিমতো অবিশ্বাস্যই! গড়ের দিক থেকে তার ধারেকাছেও নেই আর কেউই।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে দুই ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজ ও টম ব্যান্টন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন। প্রথম তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে জোবার্গ স্কোরবোর্ডে উঠায় ৪৭ রান। নির্ধারিত ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রান করে জোবার্গ। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন ব্যান্টন। ডারবান বোলারদের মধ্যে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন তৈয়ব আব্বাস, লিন্ডে, ব্র্যাড ইভান্স ও আজমতউল্লাহ।
রান তাড়ায় ডারবানের দুই ওপেনার টিম সাইফার্ট ও জাজাই উড়ন্ত শুরু এনে দেন। ২.৪ ওভারেই ডারবান তুলে ফেলে ৩৩ রান, যার মধ্যে সাইফার্টের একাই করেন ৩০ রান। তবে এরপর ইনিংস বড় করতে পারেননি কিউই এই ব্যাটার। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে সাইফার্টকে প্যাভিলিওনের পথ দেখান উসমান শিনওয়ারি। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর উইকেটে আসেন আন্দ্রে ফ্লেচার। ওপেনার জাজাই ও ফ্লেচার মিলে জোবার্গ বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ওঠেন। পঞ্চম ওভারে বোলিংয়ে আসা হাফিজের ওভার থেকে ২৩ রান নেয় ডারবান। যার মধ্যে ছিল দুটি করে ছক্কা ও চার।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ফ্লেচার ও জাজাই যোগ করেন ৪৩ রান। ১১ বলে ২৯ রান করা ফ্লেচারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শিনওয়ারি। এরপর আসিফ আলীকে নিয়ে বাকি পথ নিরাপদে পাড়ি দেন জাজাই। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে জুনিয়র ডালাকে চার মেরে ডারবানকে প্রথম শিরোপা এনে দেন জাজাই। ২২ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন এ আফগান ব্যাটার।