

চলতি মাসেই চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে পারে নাসার আর্টেমিস প্রকল্পের প্রথম মিশন ‘আর্টেমিস ওয়ান’। তবে ভিন্নধর্মী এই মিশনে থাকবেন না কোনো নভোচারী। এর পরিবর্তে রাখা হবে মানবদেহের আদলে বানানো পুতুল আর গার্ল স্কাউটের ব্যাজ। দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবারও চাঁদে ফেরার পরিকল্পনায় মিশনটি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে নাসা। সবকিছু পরিকল্পনা মত এগোলে এবং আবহাওয়া ঠিক থাকলে ২৯ অগাস্টেই মহাকাশের পথে যাত্রা করবে আর্টেমিস ওয়ানের ওরিয়ন স্পেসক্র্যাফট। মানুষকে চাঁদে ফিরিয়ে আনা ও গভীর মহাকাশ গবেষনা প্রকল্পের এটি প্রথম মিশন। চাঁদ ঘিরে চক্কর দেওয়ার কথা রয়েছে আর্টেমিস ওয়ানের। এটি সর্বাধিক ৮.৮ মিলিয়ন পাউন্ড থ্রাস্ট উৎপন্ন করে আগের চেয়ে দ্রুত ফিরে আসবে। মিশন সম্পন্ন করে সফলভাবে ফিরে আসতে পারলে সৃষ্টি হবে নতুন ইতিহাস। সম্প্রতি মিশনটির 'অফিসিয়াল ফ্লাইট কিট' উন্মোচন করেছে নাসা। আর্টেমিস ওয়ানের কার্গো হিসেবে কী কী মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে তারই একটি তালিকা আছে এতে। ফ্লাইট কিটের তথ্য অনুযায়ী, ৫৪ কেজির কার্গোতে অ্যাপোলো ১১ মিশনের একটি ‘মুন রক’ বা চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা পাথরও থাকবে। স্পেস শাটলের শেষ ফ্লাইটেও ছিল ওই চাদেঁর পাথর। নাসা বলছে, মানব নভোচারীদের জন্য নির্মিত মহাকাশযানের চাঁদে ফেরার গুরুত্ব তুলে ধরতেই আর্টেমিস ওয়ানে থাকবে ওই চাঁদের পাথর। গ্রিক দেবী আর্টেমিসের মূর্তি সহ সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স এর অনেক আইটেমও রয়েছে ফ্লাইট কিটে। থাকছে নাসার মহাকাশ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা সংস্থা ও বেশ কয়েকটি দেশের ছোট ছোট পতাকা। NASA-এর আর্টেমিস মুন পড রচনা প্রতিযোগিতার ডিজিটাইজড এন্ট্রিগুলোও রাখা হয়েছে ফ্লাইট কিটে। এছাড়াও মহাকাশ সংস্থার বেশ কিছু আইটেম, মিনিফিগারস, লেগোসহ সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষামূলক গুরুত্ব আছে এমন ছোটখাটো নানা জিনিস পাঠানো হচ্ছে আর্টেমিস ওয়ান মিশনে। চাঁদ নিয়ে গবেষণার নতুন দরজা খুলে দেবে এই মিশন। ২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম মহিলা নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে নাসা। সেই লক্ষ্য পূরণে আর্টেমিস ওয়ান প্রথম ধাপ। তাই পাঁচ দশক পর ক্রু বিহীন আর্টেমিস ওয়ান মিশনটিকে সময়ের সবচাইতে বড় চ্যালেন্জ হিসেবে মনে করছে সংস্থাটি। এর আগে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, ২০২৪ সালে আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পৌঁছবে। কিন্তু ২০২১ সালের নভেম্বরে এক বিবৃতিতে এই মিশনটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে ২০২৫ সালের ঠিক কবে এই মিশনটি শুরু হবে, এই বিষয়ে নাসার তরফে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাদের অফিসিয়াল ওয়েসবসাইটে জানানো হয়েছে, চাঁদে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য অবতরণের জন্য এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত, ভূখণ্ড, যোগাযোগ ব্যবস্থা, মহাকাশচারীদের অনুকূল পরিবেশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য অবতরণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। চাঁদের কক্ষপথ থেকে ভূপৃষ্ঠে মানব অবতরণের জন্য নাসা স্পেস এক্স-এর স্টারশিপ নির্বাচন করেছে। এর আগে ১৯৭২ সালে অ্যাপলো ১৭ মিশনের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করেছিল নাসা।


