

এবার রোবটের মাধ্যমে গভীর সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা হবে মূল্যবান খনিজ সম্পদ। যা ব্যবহার করে তৈরী করা যাবে কয়েক মিলিয়ন বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারীএটির নকশা করেছে স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান BJARKE Ingels Group. এর আগে হাইপারলুপ ট্রেন এবং "ও টাওয়ার" এর মতো যান ও স্থাপনার নকশা করেছে কোম্পানিটি। রোবটটিকে প্রযুক্তিগত ভাবে উন্নত বানিয়েছে বেলজিয়ামের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান "ডি মায়ের"।দ্যা মেটালস কোম্পানির অধীনে কাজ করবে এটি। তারা মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সংগ্রহ করে থাকে। প্যাসাফিক সাগরের ৪ হাজার ৫০০ মিটার গভীরে ক্ল্যারিওন ক্লিপারটন জোনে খনিজ সংগ্রহের কাজ করবে এই যন্ত্র।এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট অসংখ্য খনিজ পিন্ড। যেগুলো হলো নিকেল, কোবাল্ট, কপার এবং ম্যাংগানিজের বিশাল মজুদ। এই খনিজগুলো সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তৈরী করা হয়েছে রোবট জলযান পাতানিয়া টু। এর ওজন ৩৫ টনের কাছাকাছি। এটি ভ্যাকিউম শক্তি ব্যবহার করে খনিজ সংগ্রহ করতে পারে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রটি আবার সংযুক্ত থাকবে ৪ কিলোমিটার ওপরে থাকা ক্যারিয়ার জাহাজের সংগে। যার মাধ্যমে সংগ্রহকৃত খনিজ সরাসরি পৌঁছে যাবে জাহাজে।এধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজ পিন্ড সংগ্রহ করার সময় যে ধোয়া সৃষ্টি হবে, ভবিষ্যতে তা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে আরও একটি রোবট তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। ফলে এভাবে খনিজ উত্তোলন করলেও ক্ষতি হবেনা পরিবেশের। গত বছর প্রথমবারের মতো এর টেস্টিং শুরু হয়। অত্যন্ত সফলতার সাথে প্রথম পরীক্ষায় উতরে গেছে দ্যা পাতানিয়া টু। ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার ২৯ জন বিজ্ঞানী মনিটরিং এর কাজ করেছেন। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এর টেস্টিং চলবে। এধরণের ১০ টি খনিজ সংগ্রাহক তৈরী করবে তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তির রোবোটিক জলযান ব্যবহার করে ৪০ মিলিয়ন টন খনিজ সংগ্রহ করা যাবে। যা ব্যবহার করে ২৮০ মিলিয়ন ইলেকট্রিক যানবাহন তৈরী করা সম্ভব। ২০২৬ সালের মধ্যে ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারীর বাজার ৮০ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমান বিশ্বে ইলেকট্রিক যানবাহনের বাড়ন্ত চাহিদার সাথে তাল মেলাতে এই যন্ত্র গুলো বেশ সহায়ক হতে পারে। সাধারণত ভূঅভ্যন্তর থেকে এধরণের খনিজ সংগ্রহ করতে মাইনিং করা হয়। কিন্তু, এর মাধ্যমে খনিজ সংগ্রহ করা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর পদার্থ এবং আবর্জনা পরিবেশে মিশে দূষণ ঘটায়। প্রতিবছর মাইনিং এর কারণে ১৯০ বিলিয়ন বর্জ্য পদার্থ সৃষ্টি হয়। কিন্তু গভীর সমুদ্র থেকে রোবট ববহার করে খনিজ উত্তোলন বেশ পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি সহজ উপায়ে বেশি পরিমাণে প্রয়োজনীয় খনিজ পাওয়া গেলে দামও কমবে ইলেকট্রিক গাড়ির। যার কারণে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আসবে এধরণের পরিবেশবান্ধব যানবাহন গুলো। সবমিলিয়ে পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করবে দ্যা পাতানিয়া টু এর মতো রোবট। দ্যা মেটালস কোম্পানি জানিয়েছে, তারা বেশ যত্ন এবং মনোযোগ সহকারে খনিজ সংগ্রহ করবে। যেন পরবর্তি প্রজন্মের জন্য পৃথিবীর পরিবেশ সুন্দর রাখা সম্ভব হয়।


