

এবার সৌর জগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতির ছবি তুলেছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। ২২ আগস্ট সোমরার এ গ্রহের দুর্দান্ত কিছু ছবি প্রকাশ করে বিশ্বকে আবারও চমকে দেন নাসার বিজ্ঞানীরা। গত জুলাইয়ে ছবিটি ধারণ করে টেলিস্কোপটি। এতে বৃহস্পতির শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ, আরোরা, তাপ ও চাপের চরম অবস্থা, উপগ্রহ, বৃহস্পতির বলয়সহ অনেক খুটিনাটি বিষয় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। এমন বৃহস্পতি আগে দেখেনি মানুষ।এছাড়াও ছবিতে বৃহস্পতির উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে বিশাল আলোকচ্ছটা লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহটির গায়ে রয়েছে জ্বলজ্বলে লাল দাগ। যা মূলত একটি ঝড়।গবেষকদের দাবি, ঝড়টি এতোটাই বিশাল যে নিমেষেই তা গ্রাস করতে পারে পৃথিবীর মতো যেকোনো গ্রহকে। বিস্ময়কর ওই রেড স্পটের আশপাশে রয়েছে আরও অসংখ্য ছোট ছোট ঝড়ের চিহ্ন। শুধু তাই নয়, স্পষ্টভাবে ধরা দিয়েছে বৃহস্পতির রিং, ঘূর্ণায়মান কুয়াশা সহ পেছনের গ্যালাক্সি। পাশাপাশি বৃহস্পতির তিন চাঁদ ইউরোপা, থিব এবং মেটিসও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে ছবিতে। NASA-র প্রকাশিত এই গ্রহের সর্বশেষ ছবিকে কৃত্রিমভাবে নীল, সাদা, সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙে রাঙানো হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জ্যোতির্বিদ ইমকে ডি প্যাটার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “আমরা বৃহস্পতিকে এভাবে কখনও দেখিনি। এটা অবিশ্বাস্য। আমরা সত্যিই আশা করিনি যে এই ছবি এত ভালো হবে।”নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একের পর এক চমক দিয়েই যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের সর্বাধুনিক স্পেস অবজারভেটরি এটি। দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়া গ্রহাণু আর ধূমকেতুর ছবি তোলার সক্ষমতাও আছে জেমস ওয়েবের। গেলো ১২ জুলাই মহাশূন্যের ১৩৫০ কোটি বছর আগের বিরল এক ছবি তুলে আলোড়ন তোলে টেলিস্কোপটি।। একেবারে প্রথম জন্ম নেয়া তারাগুলোর আলোর বিচ্ছুরণ কীভাবে ঘটেছিল তা দেখা যায় ছবিতে। ছবিটি সম্পূর্ণ রঙিন ও চমকপ্রদ। এতে তারামণ্ডলী ও ছায়াপথের আলোকরশ্মির বিচ্ছুরণ দেখা যাচ্ছে। যা শত শত কোটি বছর পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিয়েছে। নাসা জানিয়েছে, এ যাবত বহির্বিশ্বের যত ছবি তোলা হয়েছে, তার মধ্যেই এটিই সবচেয়ে গভীর, তীক্ষ্ণ ও পরিচ্ছন্ন ইনফ্রারেড ছবি। জেমস ওয়েবের এই ছবিটি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল নাসা। এছাড়াও কয়েকদিন আগেই পৃথিবী থেকে এক হাজার আলোকবর্ষ দূরে একটি গ্রহে পানি থাকার চিহ্ন শনাক্ত করেছে নাসার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। ডব্লিউএসপি-৯৬বি নামের নতুন গ্রহে আছে সূর্যের মতো এক নক্ষত্র। আর এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে এক দৈত্যাকার গ্যাসীয় পিণ্ড। এমনই চকম পদ তথ্য উপাত্ত নিয়ে বারবার আলোচনায় আসছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ। বিজ্ঞানীরা ওয়েব টেলিস্কোপের তথ্যের গুণগত মান বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছেন, টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে, তার থেকেও অনেক গভীরে গিয়ে মহাজগতের চিত্র তুলে আনতে সক্ষম এটি। ফলে অতি শক্তিশালী এ দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে মহাশূন্যের অনেক ভেতর পর্যন্ত এখন দেখা এবং তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। জেমস ওয়েবের ১০ বছরের পরিকল্পিত মিশনের সাত মাস চলছে। এটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নাসার মিশনের লক্ষ্য ৫ বছর।৩০ বছর ধরে নকশা করা টেলিস্কোপটি একবিংশ শতাব্দীতে সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার মধ্যে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের অর্থায়নে কয়েক হাজার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী টেলিস্কোপটি গেল বছর মহাকাশে স্থাপন করেন। জেমস ওয়েব মহাকাশ গবেষণাকে অন্য এক ধারায় পৌছে দেবে বলে মনে করেছেন গবেষকেরা।


