

নেটওয়ার্কের বিড়ম্বনা ছাড়া ফোন চালানোর জন্য এক বিস্ময়কর প্রযুক্তি আসছে বাজারে। যেখানে মোবাইল ফোনের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে স্যাটেলাইট সুবিধা। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের মালিকানাধীন মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘টি মোবাইল’ যৌথভাবে এই তাক লাগানো প্রযুক্তিটি বাজারে আনতে যাচ্ছে।নতুন এই প্রযুক্তিতে মোবাইল ফোনকে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। যার কারণে মোবাইল ফোনটি চলার জন্য কোন নেটওয়ার্ক কিংবা টাওয়ারের প্রয়োজন পরবে না।বন জংগল, গহীন সমুদ্র, নির্জন মরু প্রান্তর থেকে শুরু করে বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত থেকেই এটি চালানো যাবে। নিত্য নতুন উদ্ভাবন করে মানুষকে চমকে দিতেই যেনো পছন্দ করেন ইলন মাস্ক। আর তার চমকের সর্বশেষ সংস্করণ হচ্ছে স্যাটেলাইট সংযুক্ত মোবাইল ফোন।তবে এখনই সারা বিশ্বের মানুষ এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে পারবেন না। আপাতত এ মোবাইল ফোনের স্যাটেলাইট সেবা কেবল যুক্তরাষ্ট্রে চালু হবে। দেশটির টি মোবাইলে’র সব গ্রাহক স্পেসএক্স এর স্টারলিংক স্যাটেলাইটের সাহায্যে এই সেবাটি পাবেন। টি মোবাইলের সকল গ্রাহকরা সরাসরি তাদের স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্পেসএক্স এর স্যাটেলাইটের সাহায্যে একে অন্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্স এর উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সার্ভিস বাজারে আনার ঘোষণা দেন ইলন মাস্ক ও টি মোবাইলের প্রেসিডেন্ট মাইক সিভার্ট।এমন সেবা পেতে গ্রাহকদের আলাদা কোনো প্রকারের ডিভাইস কিংবা নতুন স্মার্ট ফোন কিনতে হবে না। তাদের পূর্বের স্মার্ট ফোনই সংযুক্ত করা যাবে স্যাটেলাইটে। বর্তমানে স্টারলিংকের টার্মিনাল গুলোতে ব্যান্ডউইথ সংযুক্ত করা হয়নি বলে এটা দিয়ে প্রাথমিকভাবে কেবল টেক্সট ম্যাসেজ এবং ছবি পাঠানো যাবে। তবে খুব তাড়াতাড়ি স্টারশিপ রকেটের মাধ্যমে স্টারলিংকের দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্স। এ স্যাটেলাইটে বৃহৎ আকৃতির অ্যান্টেনা সংযুক্ত থাকবে বলে এটির সাথে সরাসরি মোবাইল ফোন যুক্ত হতে পারবে। যার মাধ্যমে পরবর্তীতে ভিডিও কলে যোগাযোগ করারও সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা। এমনকি বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলাতেও স্পেসএক্স স্যাটেলাইটের এই সেবা যুক্ত করার সুযোগ থাকব। এর আগে ২০১৯ সালে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় তিন হাজার স্টারলিংক স্যাটেলাইট পাঠিয়েছিলো স্পেসএক্স। যে সব এলাকায় নেটওয়ার্কের কাভারেজ থাকে না সেসব স্থানে যোগাযোগ রাখতে ব্যাপক কার্যকর হবে এই প্রযুক্তিটি। যার কারণে মোবাইল ফোনের জন্য পৃথিবীতে থাকবেনা কোনো ডেড জোন।মূলত নেটওয়ার্ক হিসেবে টি মোবাইলের মিডব্যান্ড স্পেকট্রাম ব্যবহার করবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো। প্রথমে সেবাটি কেবল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক হলেও ধারণা করা হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়বে পুরো বিশ্বে। এমনকি এটি প্রচলিত স্যাটেলাইট ফোনের ধারণাকেও অচল করে দিতে পারে।স্টারলিংক এর মতে অতি দ্রুতই এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরিতে সক্ষম হবে তারা।মূলত যুক্তরাষ্ট্রের যে অঞ্চলগুলোতে মোবাইল সংযোগ পাওয়া কঠিন, সে এলাকায় স্যাটেলাইট নির্ভর সংযোগ সেবা চালু করতেই স্পেস এক্স এই প্রযুক্তিটি বাজারে আনছে।


