তথ্যপ্রযুক্তি


চাঁদের উদ্দেশে উড়াল দিতে প্রস্তুত নাসার রকেট।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার

 চাঁদের উদ্দেশে উড়াল দিতে প্রস্তুত নাসার রকেট।

চাঁদে রকেট উৎক্ষেপণের জন্য ব্যস্ত সময় পার করছে নাসা। বহুল প্রতীক্ষিত মিশন শুরু হতে যাচ্ছে আজ।

সবকিছু ঠিক থাকলে নাসার পরবর্তী-প্রজন্মের আর্টেমিস রকেটটি চাঁদের উদ্দেশে উড়াল দেবে আজ সন্ধ্যায়। 

বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী এই রকেটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে থেকে উৎক্ষেপিত হবে। 

গত সপ্তাহেই কেনেডি স্পেস সেন্টারের উৎক্ষেপণ প্যাডে এসএলএস এবং ওরিয়ন স্থাপিত হয়েছে। 

কাউন্টডাউনের জন্য প্রস্তুত থাকতে প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি-সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জ্বালানি, বৈদ্যুতিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযোগ করেছেন।

এ নিয়ে নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেমস ডেভেলপমেন্টের সহযোগী প্রশাসক জিম ফ্রি বলছেন, 'গত ২২ আগস্ট সব ধরনের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সব ঠিক আছে। 

আমরা চাঁদে যাওয়ার ক্ষণ গুনছি।' অ্যাপোলো ১০ যে লঞ্চপ্যাড থেকে চাঁদের উদ্দেশে উড়েছিল, একই লঞ্চপ্যাড ব্যবহার করছে এসএলএস রকেট। 

যাত্রা শুরুর পর ২ লাখ ৩৯ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছাতে এসএলএস রকেটের সপ্তাহখানেক সময় লাগবে। 

চাঁদের কক্ষপথে ৪২ দিন বিচরণের পর ১০ অক্টোবর পৃথিবীর বুকে ফিরে আসবে সেটি।

আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে চাঁদের বুকে পড়েছিল মানুষের পা। নাসার অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে ছয় দফায় নভোচারীরা চাঁদে গিয়েছিলেন। 

১৯৬৯ সালের ২১ জুলাই চাঁদের মাটিতে প্রথম মানুষ হিসেবে পা রেখে নীল আর্মস্ট্রং গড়েছিলেন মহা রেকর্ড। কিন্তু এরপর পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর। 

মানুষ তো দূরে থাক, চন্দ্রাভিমুখে কোনো নভোযানও যায়নি। তবে ফের চাঁদে মানুষ পাঠাতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

যানটি হচ্ছে আর্টেমিস ১ মিশনের এসএলএস রকেট। যার উচ্চতা ৩২২ ফুট। বলা হচ্ছে এ পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো রকেটের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী।

চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হলেও নতুন এ মিশনের প্রথমটিতে কোনো মহাকাশচারী যাচ্ছেন না। 

এটি নাসার পরীক্ষামূলক মিশন। চাঁদের আবহাওয়া, মানুষের শরীরের উপর চাঁদের পরিবেশের প্রভাব সহ অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হবে এর মাধ্যমে।

এসএলএস রকেটটি দেখতে স্যাটার্ন ফাইভের মতো হলেও সম্পূর্ণ নতুন। এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভেতরে রয়েছে অনেক শক্তিশালী যন্ত্রপাতি। এর নির্মাণশৈলিও বেশ জটিল।  

প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করার পর এটি ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে পরবে। ৬ সপ্তাহ ধরে চলবে এই অভিযান।

এ মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করেই পরবর্তী মিশন সাজাবে নাসা। রকেটটি উড্ডয়নের সময় সিস্টেমগুলো কী অনুভব করেছিল, ওড়ার পরে কী পরিবর্তন হচ্ছে- তা বিশ্লেষণ করা হবে। 

নাসা জানিয়েছে, চারটি জৈব পরীক্ষা দুটি ভাগে ভাগ করা হবে। মহাকাশের পরিবেশে এই চার ভিন্ন সিস্টেম কীভাবে সাড়া দেয়, তা বোঝারও চেষ্টা করা হবে সংগৃহীত ডাটা থেকে।

এবার চাঁদে মানুষ না পাঠালেও ২০২৪ সালে আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য স্থির করেছে সংস্থাটি। 

এরপর ২০২৫ সালে আর্টেমিস-৩ মিশন পরিচালনা করবে। তবে চন্দ্রাভিযানে কারা যাচ্ছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করেনি নাসা। 

২০৩০ সাল নাগাদ বা এর পরপরই নাসা নভোযাত্রীদের মঙ্গল গ্রহে পাঠাতে চায়। চন্দ্রাভিযানকেও মঙ্গল গ্রহ বিজয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। 



জনপ্রিয়


তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

ইফতারে কোন মসজিদে বিরিয়ানি মিলবে- জানা যাবে অ্যাপে

রমজান মাস এলেই ইফতারে বিরিয়ানি পরিবেশন করা হচ্ছে এমন খবর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে নানা আলোচনা ও রসিকতা। এবার সেই কৌতূহলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে বাস্তব রূপ দিলেন এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামে একটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট চালু করে ইতোমধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছেন তিনি।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্যাকেজিং পণ্য নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে রিমার্ক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় চারদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে দেশ-বিদেশের ব্যবসায়ীদের নজর কাড়েছে রিমার্ক এলএলসি ইউএসএর এফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান রিমার্ক সুপার প্যাক। ফেয়ারে রিমার্কের প্যাভিলিয়নে প্রদর্শিত আধুনিক প্যাকেজি

বাজারে আসছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করা অনার এক্স৯ডি

অনার এক্স৯ডি দেশের বাজারে উন্মোচন করবে অনার বাংলাদেশ। এজন্য সম্পন্ন করা হয়েছে সকল প্রস্তুতি। সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব এবং শক্তিশালী ব্যাটারি পারফরমেন্সের মাধ্যমে এ স্মার্টফোনটি মিড-রেঞ্জ স্মার্টফোন সেগমেন্টে এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে যাচ্ছে বলে প্রত্যাশা করছ

জবিতে ফ্যাক্ট চেকিং ও ডিজিটাল হাইজেন শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

‘ফ্যাক্ট চেকিং’ শীর্ষক সেশনে কীভাবে তথ্যবিভ্রাট হয়, গুজব কীভাবে ও কারা ছড়ায়, কীভাবে ফ্যাক্ট চেকিং ও ভেরিফিকেশন করতে হবে তা- হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়।