তথ্যপ্রযুক্তি


এক সেকেন্ড পৃথিবীর সমান ভর গিলে খাচ্ছে যে ব্লেকহোল।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

এক সেকেন্ড পৃথিবীর সমান ভর গিলে খাচ্ছে যে ব্লেকহোল।

প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান মহাজাগতীয় বস্তু গিলে খাচ্ছে এক ব্ল্যাকহোল। বিজ্ঞানীরা যেটির নাম দিয়েছেন জে-১১৪৪ । 

এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মহাবিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল কৃষ্ণ গহ্বর এটি। এতই দ্রুত বর্ধনশীল যে  প্রতি সেকেন্ডে পৃথিবীর সমান মহাজাগতিক বস্তু অনায়েসে গিলে ফেলছে। 

একে ‘খড়ের গাদায় সুঁই খুঁজে পাওয়ার’ মতো ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ব্ল্যাকহোলটির ভর সূর্যের চেয়ে  ৩০০ কোটি গুন এবং  আয়তনে আমাদের ছায়াপথ থেকে প্রায় ৫০০ গুন বড়। যা আকাশের সবচেয়ে বড় তারা "ইউওয়াই স্কিউটি" এর তুলনায় প্রায় 2 হাজার গুন বেশি জায়গা দখল করে আছে।

ব্ল্যাকহোলেটির ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। যে কারণে আকারের তুলনায় এর ভর অকল্পনীয়। ভর বেশি হওয়ার কারনে মহাকর্ষীয় শক্তি কোন কিছুকেই এর  ভিতর থেকে বের হতে দেয় না, এমনকি তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণকের ফলে সৃষ্ট আলোকেও না । 

জে-১১৪৪ ব্ল্যাকহোলের উজ্জ্বলতা আমাদের ছায়াপথের সম্মিলিত উজ্জ্বলতার চেয়েও ৭ হাজার গুন বেশি। 

বেশি উজ্জ্বলতার কারনে একে পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণ টেলিস্কোপের মাধ্যমে দেখা যায়। অত্যাধিক উজ্জ্বলতার কারন এর চারপাশে রয়েছে গ্যাস বলয়।  

প্রায় ৯০০ কোটি বছর ধরে একটি পৃথিবীর সমান মহাজাগতিক বস্তু গিলে খাচ্ছে কৃষ্ণগহ্বরটি। 

নতুন এই ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। 

গবেষনায় নেতৃত্ব দানকারী অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. ক্রিস্টোফার অনকেন এর ভাষ্যমতে, "জ্যোতিবিদগন গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে জে-১১৪৪  মতো একটি ব্ল্যাকহোলের সন্ধান করেছেন।"

কিন্তু তারা এর আগে যা পেয়েছেন সেগুলো খুবই অনুজ্জ্বল। আশ্চর্যজনকভাবে তারা এই উজ্জ্বল ব্ল্যাকহোলটিকেই পাশ কাটিয়ে গেছেন।’

বিজ্ঞানিদের ধারনা ব্ল্যাকহোলটি দুই বা ততোধিক গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের সংঘর্ষের  ফলে সৃষ্টি হয়েছে।

ব্ল্যাকহোল মূলত সৃষ্টি হয় নক্ষত্র থেকে । নক্ষত্রের জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর মহাকর্ষ বলের প্রভাবে নিজের ওপরই চুপসে যায় । 

যতক্ষণ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ হাইড্রোজেন গ্যাস অবশিষ্ট থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভিতরে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চলতে থাকে। হাইড্রোজেন শেষ হয়ে গেলে কেন্দ্রীয় মূলবস্তু সংকুচিত হতে থাকে। 

এভাবে একটি তারার মৃত্যু হয়। তখন সেগুলো ব্ল্যাক হোলে পরিণত হয়। এটি অনেকটা অটোফ্যাগি প্রক্রিয়ার মতো কাজ করে। 

জে -১১৪৪ ব্ল্যাকহোলটি অন্তত কয়েক হাজার নক্ষত্রের মিশ্রনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে৷ বিশাল আয়তনের কারনে এমনটিই মনে করেন বিজ্ঞানীরা। 

এর অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয় ভয়ংকর শব্দ।   
সম্প্রতি ব্ল্যাকহোলটির হার্ট বিট শনাক্ত করা হয়েছে। যা অন্য ব্ল্যাকহোলের তুলনায় ব্যতিক্রম। 

কৃষ্ণগহ্বরের দুইটি অংশ । একটি অর্ধচন্দ্রাকার নিঃসরণ বলয় এবং অপরটি  কেন্দ্রীয় অংশ । কেন্দ্রীয় অংশ টিকে বলা হয় কালো গর্ত। অর্ধচন্দ্রাকৃতির নিঃসরণ বলয় কেন্দ্রীয় অংশটিকে ঘিরে অবস্থান করে। 

কৃষ্ণগহ্বরের অনবরত ঘূর্ণনের ফলে এই অর্ধচন্দ্রের মত আকার সৃষ্টি হয় । ইভেন্ট হরাইজন
টেলিস্কোপ দ্বারা এসব তথ্য জানা যায়।  

প্রতিটি ব্ল্যাকহোলে রয়েছে শক্তিশালী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র। ব্ল্যাকহোলের চারদিকে একটি সীমা আছে যেখানে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। এইভাবেই মহাকাশের মহাবিস্ময় হয়ে বেঁচে আছে ব্ল্যাকহোল। 



জনপ্রিয়


তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

পহেলা বৈশাখ উদযাপনে ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে উন্মোচিত হলো অপো এ৬কে

পহেলা বৈশাখের আনন্দ উদযাপনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো নতুন অপো এ৬কেতে। ‘স্মুথনেস উইদাউট লিমিট’ প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাজারে আসা এই ডিভাইসটি ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন ডিজিটাল জীবনকে আরও স্মার্ট এবং নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

টেলিকম স্থাপনায় অগ্রাধিকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান

দেশের টেলিকম অবকাঠামোর নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সরকারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ ও স্থায়ী বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার জরুরি আহ্বান জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)।

উইন্ডোজ ১১–এর বাগে সি ড্রাইভ লক, বিপাকে ব্যবহারকারীরা—সমাধানে কাজ করছে মাইক্রোসফট

উইন্ডোজ ১১–এর সাম্প্রতিক এক ত্রুটির কারণে অনেক ব্যবহারকারী তাদের কম্পিউটারের প্রধান সংরক্ষণস্থান সি ড্রাইভে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিষয়টি স্বীকার করেছে মাইক্রোসফট এবং জানিয়েছে, সমস্যাটির কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত সমাধান দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

পাঠাও এবং ডান অ্যান্ড ব্রাডস্ট্রিট-এর মধ্যে পার্টনারশিপ  উন্নত হবে কর্পোরেট যাতায়াত সেবা

দেশের জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম পাঠাও এবং বিশ্বখ্যাত বিজনেস ডেটা ও অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান ডান অ্যান্ড ব্র্যাডস্ট্রিট (Dun & Bradstreet) সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো 'পাঠাও বিজনেস রাইডস'-এর মাধ্যমে করপোরেট পেশাজীবীদের যাতায়াতকে আরও সহজ, নিরাপদ ও আধুনিক করা।