

কেবল ডকুমেন্ট কিংবা ফোটোগ্রাফই নয়, একটি প্রিন্টার দিয়ে এখন মেক আপ, খেলনা কিংবা বাহারি রকম খাদ্যদ্রব্যও বানিয়ে ফেলা সম্ভব!বিশেষ ধরনের এ প্রিন্টারের নাম দেয়া হয়েছে ‘মিঙ্ক মেকআপ’ যেখানে শুধু ছাপার কালিই নয়, বরং ব্যবহার করা হয়েছে আরও নানান রঙের মেকআপ পাউডার। মিঙ্ক নামক বিশেষ একটি অ্যাপের মাধ্যমে কেউ যদি তার পছন্দের কোনো ফুলের ছবি সেখানে নির্বাচন করে দেন, তবে প্রিন্টারটি সেটা প্রিন্ট করে তার ওপর ছিটিয়ে দেয় সেই একই রঙের মেকআপ পাউডার।ঠিক একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টয়বক্স শিশুদের জন্যে তৈরি করেছে ‘টয়বক্স ডিলাক্স বান্ডেল’ নামক একটি প্রিন্টার, যা চোখের পলকেই বানিয়ে ফেলতে পারে শিশুর পছন্দের বিচিত্র সব খেলনা। এই প্রিন্টারটিও একটি অ্যাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। প্রিন্টারের ভেতরে রয়েছে খেলনা তৈরির নানা উপাদান। সাথে রয়েছে রংবেরঙের ছবি আঁকার সুযোগ। ফলে শিশুরা চাইলেই শুধু নিজের করা নকশা ইনপুট দিয়ে চোখের পলকে পেয়ে যেতে পারে শখের কোনো খেলনা।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খেলনা কিংবা মেকআপই নয়, আরও অনেক সমস্যারই তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে এসব থ্রি-ডি প্রিন্টার।ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কোনো এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দিলে সেখানেও এ প্রিন্টারটি রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিতে পারে। এ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে দুর্যোগের সময় দূরদূরান্ত থেকে খাবার বয়ে আনার সমস্যাও অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিদ ক্যাথলিন মার্ফি তার একটি লেখায় জানিয়েছিলেন, ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার করে নাসা মহাকাশযাত্রীদের খাবারের চিন্তাও দূর করতে পারে। বার্সেলোনার মাংস ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নোভা মিট ইতোমধ্যেই মটরশুঁটি, চালসহ অন্য অনেক উপাদান আড়াআড়িভাবে জোড়া দিয়ে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রোটিনসমৃদ্ধ মাংস তৈরি করছে এই প্রিন্টারের সাহায্যে।২০ বছর আগে যখন থ্রি-ডি প্রিন্টিং শুরু হয়, তখনই বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন, একদিন এটি বিশ্বে বড় একটি বিপ্লব বয়ে আনবে, হয়েছেও তাই। ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৮ সালে বিশ্বব্যাপী যেখানে ১৪ লক্ষ থ্রি-ডি প্রিন্টার বিক্রি হয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ সেই বিক্রির হার বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮০ লক্ষে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষের চোয়াল, কান বা হৃৎপিণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মাংসপেশি সারিয়ে তুলতেও থ্রি-ডি প্রিন্টার হতে পারে খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য পৃথিবীতে এখন যত ধরনের হিয়ারিং এইড তৈরি করা হচ্ছে, তার সবই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তৈরি করা হচ্ছে।চলতি বছরের শুরুতে আমেরিকায় মাত্র ৮ দিনে ১৯০০ স্কয়ার-ফুটের একটি বাড়িও বানানো হয়েছে থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ের সাহায্যে। তবে যেকোনো নতুন প্রযুক্তি সামনে এলেই তার নেতিবাচক দিকগুলোও আলোচনায় উঠে আসে । ত্রি-ডি প্রিন্টার নিয়েও চলছে এমন আলোচনা।অনেকে বলছেন, এত সহজেই কোনো জিনিস বানিয়ে ফেলা সম্ভব হলে মানুষ আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি আপলোড দিয়েও খুব সহজেই তা বানিয়েফেলতে পারবে এবং এতে হামলা-সংঘাতও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে নেতিবাচক দিকগুলোর সমাধান করা সম্ভব হলে, থ্রি-ডি প্রিন্টার যে মানুষের বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে একটি আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।


