একজন আইফোন ব্যাবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া কারো পক্ষেই সহজ নয়। এমনকি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই' এর পক্ষেও নয়।
কারণ, এন্ড্রোয়েডের তুলনায় আইফোনের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা হয়ে থাকে শক্তিশালী এবং নিরাপদ। উন্নত প্রযুক্তি এবং রিয়েলিস্টক ফিচার নিয়ে বরাবরই মার্কেটে আসে নতুন মডেলের আইফোন গুলো।
অসাধারণ আউটলুক, ইন হ্যান্ড দারুণ ফিল, উন্নত মানের যন্ত্রাংশ এবং ইউজার ইন্টারফেসের কারণে আইফোনের চাহিদা বিশ্ব জুড়ে।
হলিউড থেকে বলিউডের নায়ক নায়িকা কিংবা বিশ্বের গণ্যমান্য ব্যাক্তি সবাইকেই নিরাপত্তার খাতিরে আইফোন ব্যাবহার করতে দেখা যায়।
কারণ, এপল কোম্পানি তার ইউজারদের তথ্যের নিরাপত্তা দেওয়ার দিক দিয়ে বাজারের সকল ব্র্যান্ড থেকে যোজন যোজন এগিয়ে।
প্রতিনিয়ত তারা ios আপডেটের মাধ্যমে মুঠোফোনের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা দিন দিন
উন্নত করে যাচ্ছে। ফলে, কেউ চাইলেই তাদের মুঠোফোন হ্যাক করতে পারবে না।
বর্তমান প্রজন্মের আইফোন গুলো থেকে গ্রাহকের ডাটা বের করে আনা' প্রায় অসম্ভবই বলা চলে।
এমনকি আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা এফ বি আই নিজেও একবার সেই চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়।
বেশ কয়েক বছর আগে বিশ্বের এই সুদক্ষ গোয়েন্দা সংস্থাটি এক সন্দেহভাজনের আইফোনের লক খোলার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়।
লক খুলতে না পেরে তাদের তখন দ্বারস্থ হতে হয়েছিল এপেল কোম্পানির নিকট কিন্তু, মজার ব্যাপার হচ্ছে এপেল কোম্পানি সেই লক খুলে দেয়নি।
কারণ, কোম্পানিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রাহকদের সর্বোত্তম তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এন্ড্রোয়েড মুঠোফোন গুলোতে খুব সহজেই থার্ড পার্টি এপস ঢুকে পরতে দেখা যায়। কিন্তু এপেলের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা এতটাই শক্তিশী যে কোনো প্রকার বিপদজনক এপস আইফোনে প্রবেশ করতে পারে না।
এছাড়া, Unofficial ও Unknown Website থেকে বিভিন্ন এপস এন্ড্রোয়েডে ডাউনলোড করা গেলেও IOS এ সেটা প্রায় অসম্ভব।
IOS এর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এপেলের নিজেস্ব এপস্টোর থেকেই প্রয়োজনীয় এপস ডাউনলোড করতে হয়। ফলে, এই ক্ষেত্রেও গ্রাহকদের নিরাপত্তা ঝুকি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
কারণ, কোনো অবাঞ্ছিত এবং ত্রুটিপূর্ণ এপ্লিকেশন এপেল তাদের এপস্টোরে কখনোই রাখতে দেয় না।
তাছাড়া, আইফোন হারিয়ে গেলে কিংবা চুরি হয়ে গেলেও " Find My Device " অপশন দিয়ে খুব সহজেই মোবাইলটি খুজে বের করা যায়।
অন্যদিকে স্যামসাং হোক কিংবা চীনা টেক জায়েন্ট হুয়াহুয়ে, সব প্রতিষ্ঠানই মোবাইল প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো পক্ষের যন্ত্রাংশ ব্যাবহার করেই থাকে।
স্যামসাং এর নিজেস্ব প্রসেসর থাকা সত্ত্বেও প্রায়শই তাদের স্ন্যাপড্রাগনের প্রসেসর ব্যাবহার করতে দেখা যায়।
এছাড়া, শাওমি, অপ্পো, ভিভো, ওয়ানপ্লাসের হেন্ডসেট গুলোতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং কিংবা সনির ক্যামেরা লেন্স ব্যাবহার করে থাকে।
অন্যদিকে এপেল চার্জিং পোর্ট থেকে শুরু করে মোবাইলের রেম, রোম, প্রসেসর সব কিছু নিজেরাই প্রস্তুত করে থাকে।
ফলে, নিজেদের নির্মিত যন্ত্রাংশের সাথে খুব সহজেই খাপ খেয়ে যায়। গুনগত মান এবং অসাধারণ ইউজার ইন্টারফেস অভিজ্ঞতার কারণে আইফোন বাজারে সবার সেরা।
বিগত প্রজন্মের আইফোন গুলোর ডিজাইনে আহামরি পার্থক্য না থাকলেও তাদের ফিচারে আছে বেশ নতুনত্ব।
IOS এর প্রতিটি আপডেটেই নিত্য নতুন সব চমক থাকে। যেগুলো ক্রেতাকে আকৃষ্ট করার আরো একটি কারণ। এছাড়া, এপেলের ইকোসিস্টেমের কারণে ইউজারদের জীবনযাত্রা আরো সহজ হয়ে উঠে।
তাই, ব্যাক্তিগত নিরাপত্তা, অসাধারণ ইউজার ইন্টারফেস, নিত্য নতুন ফিচার, ডিজাইন ও টেকসই হার্ডওয়ারের কারণে আইফোন সহ এপেলের প্রত্যেকটি ডিভাইসই প্রযুক্তি প্রেমীদের কাছে বেশ কদরের।