কার্বনখেকো গাড়ি বানিয়ে চমকে দিলো নেদারল্যান্ডসের শিক্ষার্থীরা
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ নয় বরং পথ চলতে চলতে বাতাস পরিষ্কার করবে গাড়ি। এমনই এক পরিবেশবান্ধব গাড়ি বানিয়ে চমকে দিয়েছে নেদারল্যান্ডসের একদল শিক্ষার্থী। যার নাম দেওয়া হয়েছে'জেম''। এটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ইঞ্জিন। এতে এমন এক ধরনের ফিল্টার লাগানো হয়েছে, যা কার্বন ডাই অক্সাইডের কালো ধোঁয়া শুষে নেবে।দুই আসনের গাড়িটি চলে ক্লিনট্রন লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে। আর গাড়ির সিংহভাগ যন্ত্রাংশ নির্মাণ করা হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টারে, রিসাইকল করা প্লাস্টিক দিয়ে।গাড়িটির উৎপাদন থেকে শুরু করে জীবদ্দশার শেষ পর্যন্ত যতোটা কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ হওয়ার কথা, তার চেয়ে বেশি শুষে নেবে। এমনটাই জানিয়েছেন আইন্ডহোভেন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা।মোট ৩৫ জন ছাত্র প্রায় ১০ মাস কাজ করার পর এ যাত্রীবাহী বৈদ্যুতিক গাড়িটি তৈরি করে। এটি এক বছরে ২০ হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে এবং বাতাস থেকে ২ কিলোগ্রাম কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নিতে সক্ষম হবে।এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি ফিল্টার।ফিল্টার ভর্তি হওয়ার আগে গাড়িটি চালানো যায় ৩২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। তারপর চার্জ দিয়ে সেটি খালি করতে হয়।চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। গাড়ির মাথায় বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। তার সঙ্গেই চার্জিং প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। জেম দেখতে অনেকটা বিখ্যাত ব্র্যান্ডের তৈরি স্পোর্টসকারের মতো। থ্রি-ডি পেইন্টিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। চার চাকার এই গাড়িটিতে দু’জনের বসার জায়গা রয়েছে।আপাতত জেমকে একটি প্রাথমিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও উন্নত করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন আইনধোবেন ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা। ভবিষ্যতে গাড়িটিকে সম্পূর্ণ কার্বন মুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। সেজন্য বাড়ানো হবে ‘জেম’-এর ফিল্টারের ক্ষমতাও। এ গাড়ি তৈরির মূল লক্ষ্যই ছিলো পরিবেশের ভবিষ্যৎ বিপর্যয় যথাসম্ভব কমিয়ে আনা। এমনকি তৈরির সময়েও যাতে পরিবেশ দূষণ কম হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা।আপাতদৃষ্টিতে গাড়িটির কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের ক্ষমতা কম মনে হলেও, জেম-এর ব্যাপক ব্যবহার পরিবেশের দারুণ পরিবর্তন ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এক্ষেত্রে অন্যান্য গাড়ি যদি সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ঘটতে পারে বিপ্লব। সারাবিশ্বে ১০০ কোটির বেশি প্রাইভেটকার চলে। এর পরিবর্তে ‘জেম’ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষণ অনেক কমে আসবে।শুধু নেদারল্ডান্ডসই নয়, সারা বিশ্বেই এখন পরিবেশবান্ধব গাড়ি নিয়ে চলছে গবেষণা। আর দু-তিন দশকের মধ্যেই বিশ্বে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত মোটরগাড়ি অতীত হয়ে যাবে।বৈশ্বিক গাড়ির বাজার চলে যাবে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির দখলে। বড় বড় গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন মডেল তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডসের ছাত্রদের তৈরি গাড়িটি যুগান্তকারী উদ্ভাবন।খুব শীঘ্রই গাড়িটির স্বত্বের জন্য আবেদন করবেন তারা। ইতোমধ্যে আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন।এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রচারমূলক ট্যুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ‘জেম’। আপাতত তা সেখানকার বিভিন্ন কোম্পানি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


