

প্রথমবারে মতো বাজারে এসেছে উড়ন্ত মোটরসাইকেল। এরই মধ্যে জাপানের বাজারে এ বাইক বিক্রি শুরু হয়েছে।প্রাথমিকভাবে এর দাম ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার মার্কিন ডলার। উড়ন্ত বাইকটি নিয়ে এসেছে নতুন এক জাপানি অটোমোবাইল সংস্থা। এয়ারউইনস ট্যাকনোলজিস নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো এ ধরনের হোবার বাইক নির্মাণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ডেট্রয়েট অটো শো তে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয় এটি। এই শো এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিষ্ঠানটির অভিষেক ঘটলো বাইকটির। যার আনুষ্ঠানিক নাম "এক্সটুরিস্মো"। উড়ন্ত বাইকটি লম্বায় ৩.৭ মিটার, ২.৪ মিটার চওড়া এবং এটির উচ্চতা ১.৫ মিটার। অভিনব এই বাইকটির প্রাথমিক ওজন ৩০০ কেজি। একটানা চল্লিশ মিনিটের মতো উড়তে পারে এটি। সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় ১০০ কি.মি.। উত্তর আমেরিকার যানবাহন প্রদর্শনীর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ডেট্রয়েট অটো শো থেকে জানা যায়, বাইকটি চালকদের পক্ষে যথেষ্ট আরামদায়ক। চালানোর সময় এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। যেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে বেরিয়ে আসা কোন কাল্পনিক বাহন। জনপ্রিয় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তাদের টুইটার একাউন্টে বাইকটির একটি ভিডিও আপলোড করে। এতে দেখা যায় বাইকটি ধীরে ধীরে মাটি থেকে বেশ উঁচুতে উঠে যাচ্ছে এবং চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিডিওটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন দর্শকেরা। সাথে সাথে সাড়া পড়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। অনেকে জনপ্রিয় সিনেমা "স্টার ওয়ারস" এ দেখানো "স্পিডি বাইক" নামক এক ধরনের উড়ন্ত বাইকের সাথে একে তুলনা করছেন। উড়ন্ত বাইকের ধারনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ইফেক্ট-৩, সাইবারপাঙ্ক-২০৭৭, হিরোস অফ দ্য স্ট্রম সহ বিখ্যাত কিছু ভিডিও গেমসে এবং টেলিভিশন শো 'কামেন রাইডার রিভাইস' এ ধরনের উড়ন্ত বাইক দেখা গেছে। কিন্তু বাস্তবে এবারই প্রথম বাইকের উড়ার ক্ষমতা দেখলো বিশ্ববাসী। এই উড়ন্ত বাইককে কে বলা হচ্ছে 'শহুরে গতিশীলতার ভবিষ্যৎ'। বিশ্বের বড় এবং ব্যস্ত শহরের প্রধান সমস্যাই হলো যানজট। কর্মক্ষেত্রে যাওয়া আসার সময় ছাড়াও দিনের বেশিরভাগ সময়টাতে যানজট লেগেই থাকে। ফলে প্রচুর সময় নষ্ট হয়। এমতাবস্থায়, উড়ন্ত বাইকের সহজলভ্যতা হয়তো সামান্য স্বস্তি এনে দিতে পারে। টেকসই প্রযুক্তি হিসেবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয় ২০২১ এর অক্টোবরে। পরবর্তীতে জাপানের সাধারন জনগনের কাছে উন্মোচিত হয়। জাপানে উড়ন্ত বাইকটি ইতিমধ্যেই বিক্রির জন্য বাজারে চলে এসেছে।এয়ারউইনস কোম্পানী ২০২৩ সাল নাগাদ বাইকটির একটি ছোট সংস্করন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনবে বলে পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে আলোচিত বাইকটি দাম আকাশচুম্বী। তবে ছোট আকারের বৈদ্যুতিক মডেলটির দাম কমিয়ে ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। যদিও এটি করতে মোটামুটি ২ থেকে ৩ বছর সময় লাগতে পারে। 'এয়ারউইনস' নতুন যুগের চিন্তা-ধারা সম্পন্ন একটি অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান। যাদের লক্ষ্য হলো গতানুগতিক ধ্যান-ধারনায় আবদ্ধ না থেকে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট নতুন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে এগিয়ে যাওয়া এবং সমাজের পরিবর্তন সাধন করা। হোবারবাইক ছাড়াও সংস্থাটি 'কসমস' নামক একটি ড্রোন পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্লাটফর্মও পরিচালনা করে থাকে।


