গত এক দশক ধরেই, ল্যাপটপে টাচস্ক্রিনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিল, টেক দুনিয়ার অন্যতম বড় নাম 'অ্যাপল'।
এমন সুবিধা চাওয়া ভোক্তাদের জন্য, আইপ্যাডকে ভালো বিকল্প হিসেবে মনে করতো এই প্রতিষ্ঠান।
এমনকি বিখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তিবিদ এবং অ্যাপলের সহ প্রতিষ্ঠাতা, স্টিভ জবসও ল্যাপটপে টাচস্ক্রিন যোগ করাকে 'নকশাগতভাবে জঘন্য' বলেছিলেন।
পাশাপাশি ল্যাপটপে টাচস্ক্রিনের সুবিধা দেওয়া হলে, আইপ্যাড বিক্রয় কমে যাওয়ারও আশঙ্কা ছিল কোম্পানিটির।
তবে আগের সেই অবস্থান থেকে একেবারেই ইউটার্ন নিয়েছে অ্যাপল। ম্যাকবুক প্রো এর নতুন সংস্করণে, প্রথমবারের মতো টাচস্ক্রিনের সুবিধা নিয়ে আসছে তারা।
বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে টাচক্রিন সংবলিত "ম্যাকবুক প্রো" বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা আছে তাদের।
অ্যাপলের এমন পদক্ষেপকে, তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে আঁকড়ে রাখা আদর্শের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকেই, বাড়তে শুরু করেছে অ্যাপলের শেয়ার মূল্য।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ২.১% বৃদ্ধি পেয়ে, ১৩৩.৪৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৪ হাজার টাকা।
মূলত প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতেই, অ্যাপল ম্যাকবুক প্রো -তে টাচস্ক্রিন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেল, এইচপি, মাইক্রোসফট, লেনোভো, স্যামসাং - এর মতো বড়বড় প্রতিষ্ঠান, টাচস্ক্রিন যুক্ত ল্যাপটপের বাজারে প্রবেশ করেছিল অনেক আগেই, পিছিয়ে ছিল একমাত্র অ্যাপল।
পাশাপাশি ম্যাক বুকের পুনরুত্থান, অ্যাপলের জন্য আইপ্যাডের তুলনায় একটি বড় বাজার তৈরী করেছে। ফলে বাজারের অন্যান্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে তাল মিলিয়ে না চললে, ভবিষ্যতে বড় সমস্যারই সম্মুখীন হতো তারা।
ইতিমধ্যেই নতুন সংস্করণের ম্যাকবুক এর প্রকল্প নিয়ে, কাজ শুরু করে দিয়েছেন অ্যাপলের প্রকৌশলীরা।
অন্যান্যবারের মতো এবারও ম্যাকবুক প্রো -তে ঐতিহ্যবাহী ল্যাপটপের ডিজাইন ধরে রাখবে অ্যাপল, থাকবে ট্র্যাকবোর্ড এবং কীবোর্ড।
তবে পার্থক্য একটাই, ল্যাপটপের স্ক্রিন সমর্থন করবে ব্যবহারকারীর হাতের স্পর্শ, ঠিক যেমনটি করে থাকে আইফোন বা আইপ্যাড। সময়ের সাথে সাথে অ্যাপল হয়তো পরের মডেলগুলোতে, টাচস্ক্রিনের ব্যবহার আরো সম্প্রসারিত করবে।
পাশাপাশি ডিসপ্লেগুলিতে জৈব আলো নিঃসরণকারী, OLED প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে এপল। বর্তমানে কোম্পানিটি তার ম্যাক ল্যাপটপগুলোতে এলসিডি ব্যবহার করে।
অবশ্য OLED প্রযুক্তি অ্যাপল এর আগেও ব্যবহার করেছে, আইফোন এবং অ্যাপল ওয়াচে। মূলত এই ডিসপ্লেগুলো ব্যবহারকারীকে উন্নত মানের উজ্জ্বলতা এবং রঙ প্রদান করতে সক্ষম।
২০২৪ সালের প্রথমার্ধে বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা আইপ্যাড প্রোতে ব্যবহৃত হবে এই উন্নত ডিসপ্লে।
অ্যাপলের নিজের অবস্থান থেকে সরে আসার উদাহরণ এবারই প্রথম নয়। তারা কখনো ফোন অথবা ট্যাবলেট বিক্রয় করবে না বলে জানিয়েছিলেন স্টিভ জবস।
অথচ বর্তমানে তাদের ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ নির্ভর করে আইফোন বা আইপ্যাডের উপর। এসব পরিবর্তন ভোক্তাদের কাছে, ম্যাকবুকে টাচস্ক্রিনের অভাব আরো প্রকট করে তুলে।
কারণ টাচস্ক্রিনের অভাবে, আইফোনের জন্য ডিজাইন করা অ্যাপ ব্যবহার করা ছিল বেশ হতাশাজনক এক অভিজ্ঞতা। বছরের পর বছর ধরে টাচস্ক্রিনযুক্ত ম্যাক চেয়ে আসছিল ভোক্তারা।
ভোক্তাদের কথা ভেবেই ২০১৬ সালে টাচবার চালু করেছিল অ্যাপল, যদিও ম্যাক ব্যবহারকারীদের কাছে মোটেই সমাদৃত হয়নি সেটি। অবশেষে অ্যাপলের এই সিদ্ধান্ত নিশ্চই বেশ আশ্বস্ত করবে ম্যাকবুক ব্যবহারকারীদের!