ব্যবসা


আস্থা থেকেই সাফল্য: কনটেন্টনির্ভর যাত্রায় সাজগোজের উত্থান


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৩ জুন ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

আস্থা থেকেই সাফল্য: কনটেন্টনির্ভর যাত্রায় সাজগোজের উত্থান

বাংলাদেশে সৌন্দর্যচর্চা ও স্কিনকেয়ার বিষয়ক নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি যখন স্পষ্ট ছিল, ঠিক তখনই সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সাজগোজ। পণ্য বিক্রির চেয়ে গ্রাহকদের সঠিক তথ্য ও পরামর্শ দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম পরিচিত কনটেন্টনির্ভর বিউটি ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

 

“ইনোভেশন ফর আ সাস্টেইনেবল ফিউচার: সিলেক্টেড কেসেস (২০২৪)” গ্রন্থে প্রকাশিত একটি কেস স্টাডি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সিনথিয়া শারমিন ইসলাম, নাজমুল শেখ এবং মিল্কি মাহমুদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে সাজগোজ। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত বিক্রয়কেন্দ্রিক কৌশলের বাইরে গিয়ে তথ্যভিত্তিক বাংলা কনটেন্ট তৈরিতে গুরুত্ব দেয়।

 

প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক কার্যক্রম ছিল সৌন্দর্যচর্চা, ত্বকের যত্ন, পণ্যের ব্যবহারবিধি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ভাষায় তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্ট প্রকাশ। বাংলাদেশের আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এসব কনটেন্ট দ্রুতই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে।

 

সাজগোজের কৌশলের মূল ভিত্তি ছিল গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। কোন পণ্য নিরাপদ, কোনটি নির্দিষ্ট ত্বকের জন্য উপযোগী কিংবা কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে—এ ধরনের নানা বিষয়ে তথ্যভিত্তিক নির্দেশনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি নিজেকে একটি নির্ভরযোগ্য পরামর্শদাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

 

প্রতিষ্ঠানটির যাত্রাপথ দেখিয়েছে, অনেক সময় বাজারে পণ্যের অভাব নয়, বরং তথ্য ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই সাজগোজ তথ্য, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহক আস্থাকে ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

 

বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়াও ছিল তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এতে এমন একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্টের বাইরে ছিল। ফলে স্থানীয় বাস্তবতাভিত্তিক তথ্যের কারণে সাজগোজের কনটেন্ট আরও গ্রহণযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

 

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাজগোজকে ঘিরে গড়ে ওঠে একটি সক্রিয় কমিউনিটি। ব্যবহারকারীরা শুধু তথ্য গ্রহণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশ্নোত্তর এবং শেখার মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করেছেন। এই কমিউনিটিই পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির অন্যতম শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

 

বর্তমানে সাজগোজ একটি পূর্ণাঙ্গ কনটেন্টনির্ভর ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত। তবে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় অর্জন হলো গ্রাহকদের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পারলে ব্যবসায়িক সাফল্যও স্বাভাবিকভাবেই অনুসরণ করে। সাজগোজের গল্প সেই বাস্তবতারই একটি উদাহরণ, যেখানে জ্ঞান, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি একটি ব্র্যান্ডকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের পথে নিয়ে গেছে।

 

 

 


জনপ্রিয়


ব্যবসা থেকে আরও পড়ুন

ওয়েবসাইটে কম দাম দেখে ড্যাজলে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা, সেলস পার্সনদের বিরুদ্ধে বাজে আচরনের অভিযোগ

আইফোন ১৭ প্রো কিনতে গিয়ে দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ড্যাজলের একটি শাখায় তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ খালিদ। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ড্যাজলের একটি শাখায় পণ্যের মূল্য, বিক্রয়কর্মীদের আচরণ এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বুলেট ট্রেনে চীনা বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর বাণিজ্যকে বিনিয়োগ, রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো সহযোগিতাকেন্দ্রিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে উভয় দেশই গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম উচ্চগতির রেল, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চীনা বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার এই চার খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছয় মাসে ৪১২ কোটি টাকা মুনাফা বিকাশের, ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪১২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান bKash। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৩০৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ।

তেজগাঁওয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ ‘প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ’ উদ্বোধন

রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের শান্তা পিনাকল টাওয়ারে ফ্ল্যাগশিপ ‘তেজগাঁও প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ’ উদ্বোধন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন এই শাখা চালুর মাধ্যমে রাজধানীতে ব্যাংকটির সেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হলো।