ব্যবসা


বুলেট ট্রেনে চীনা বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার

আপডেট:০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার

বুলেট ট্রেনে চীনা বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর বাণিজ্যকে বিনিয়োগ, রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অবকাঠামো সহযোগিতাকেন্দ্রিক অংশীদারত্বে রূপ দিতে উভয় দেশই গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম উচ্চগতির রেল, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চীনা বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার এই চার খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। বর্তমানে দুই দেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এ বাণিজ্যে বাংলাদেশের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশ চীনে ১ থেকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করলেও দেশটি থেকে ২২ থেকে ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য আমদানি করে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঘাটতি কমাতে শুধু আমদানি নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। বরং চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানো এবং দেশটিকে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে আকৃষ্ট করাই হবে কার্যকর সমাধান। এতে একদিকে যেমন চীনা মূলধন ও প্রযুক্তি আসবে, অন্যদিকে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য নতুন বাজারও তৈরি হবে।

 

বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে চীনের বাজারে প্রায় ৯৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। তবে এই সুযোগের তুলনায় রপ্তানি এখনো অনেক কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্যের বৈচিত্র্যের অভাব, আন্তর্জাতিক মান ও সার্টিফিকেশন জটিলতা, চীনা বাজার সম্পর্কে সীমিত ধারণা এবং বিপণন সক্ষমতার ঘাটতি রপ্তানি বৃদ্ধির পথে বড় বাধা।

 

তাদের মতে, তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, হোম টেক্সটাইল, আম, চা, মসলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং জেনেরিক ওষুধের মতো খাতে বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব পণ্যের জন্য চীনের মান ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

 

বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে চীনা কোম্পানিগুলোর ঘোষিত ও চলমান বিনিয়োগের পরিমাণ ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিদ্যুৎ, পরিবহন, অবকাঠামো, শিল্পাঞ্চল ও উৎপাদন খাতে এসব বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

চীনের সহযোগিতায় নির্মিত কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ এবং বাংলাদেশ-চীন যৌথ বিনিয়োগে গড়ে ওঠা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র ইতোমধ্যে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম উচ্চগতির রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। প্রায় ২২৫ থেকে ২৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই রেলপথে ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলতে পারবে। এতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগতে পারে মাত্র ৫৫ থেকে ৭৫ মিনিট। যদিও প্রায় ৯৩ থেকে ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চগতির রেল চালু হলে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী, মিরসরাই ও চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠবে। এতে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে।

 

বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঈনুল ইসলাম বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন, মিরসরাই শিল্পনগর এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন দেশের উৎপাদন ও রপ্তানি অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বড় জাহাজ ভেড়ানো, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা এবং পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

 

তার মতে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু আমদানি বৃদ্ধি নয়; বরং চীনা বিনিয়োগে দেশে উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ। এ চার খাতে সমন্বিত অগ্রগতি অর্জিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক আমদানিনির্ভর বাণিজ্য থেকে বিনিয়োগ ও রপ্তানিনির্ভর কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।




সম্পর্কিত

ব্যবসা

জনপ্রিয়


ব্যবসা থেকে আরও পড়ুন

ছয় মাসে ৪১২ কোটি টাকা মুনাফা বিকাশের, ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৪১২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান bKash। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৩০৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ।

তেজগাঁওয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ ‘প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ’ উদ্বোধন

রাজধানীর তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোডের শান্তা পিনাকল টাওয়ারে ফ্ল্যাগশিপ ‘তেজগাঁও প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ’ উদ্বোধন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন এই শাখা চালুর মাধ্যমে রাজধানীতে ব্যাংকটির সেবা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী হলো।

দারাজের ৭.৭ সুপার সেভিংস সেলে বিশাল ছাড়, জ্যাকপট ও ব্র্যান্ড অফার

দেশের অন্যতম অনলাইন মার্কেটপ্লেস দারাজ বাংলাদেশ শুরু করেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘৭.৭ সুপার সেভিংস সেল’ ক্যাম্পেইন। ৬ জুলাই রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ১৭ জুলাই পর্যন্ত। এ সময় গ্রাহকদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়, এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ড অফার, জ্যাকপট পুরস্কার এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যে বিশেষ কেনাকাটার সুযোগ।

গলফভিউ প্রকল্পের ফ্ল্যাট হস্তান্তর করল ফোর্ট্রেস

আবাসন খাতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে ফোর্ট্রেস। প্রতিষ্ঠানটি তাদের বহুল প্রতীক্ষিত আবাসন প্রকল্প ‘গলফভিউ’-এর ফ্ল্যাট (GOLFVIEW BY FORTRESS) আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করেছে।