আইফোন ১৭ প্রো কিনতে গিয়ে দেশের প্রযুক্তিপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ড্যাজলের একটি শাখায় তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ খালিদ। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ড্যাজলের একটি শাখায় পণ্যের মূল্য, বিক্রয়কর্মীদের আচরণ এবং গ্রাহকসেবা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

খালিদের দাবি, আইফোন ১৭ প্রো-এর ৫১২ জিবি গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট কেনার আগে তিনি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দাম তুলনা করেন। পরে ড্যাজলের ওয়েবসাইটে ফোনটির দাম ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০ টাকা দেখতে পেয়ে সেখান থেকেই কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী তিনি রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত ড্যাজলের শাখায় যান।

তার অভিযোগ, দোকানে গিয়ে তিনি বিক্রয়কর্মীদের আচরণে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানে যাওয়ার পর কর্মীরা তাকে বসার জন্যও অনুরোধ করেননি। পরে ফোনটির দাম জানতে চাইলে একজন বিক্রয়কর্মী তাকে জানান, পণ্যটির দাম বেড়েছে। তবে তখনও ড্যাজলের ওয়েবসাইটে ফোনটির মূল্য ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০ টাকা দেখাচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

citytouch 728-X-90

খালিদের ভাষ্য, ওই বিক্রয়কর্মী তাকে জানান, ওয়েবসাইটে দেখানো দামের ফোনটির স্টক শেষ হয়ে গেছে এবং ওয়েবসাইটের মূল্য আপডেট করা হয়নি। তবে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকায় ফোনটি ‘ম্যানেজ’ করে দেওয়া সম্ভব বলেও তাকে জানানো হয়।

এ ঘটনায় তিনি ড্যাজলের কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করেন। খালিদের অভিযোগ, কাস্টমার সার্ভিস থেকে তাকে দোকানের সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়। তবে ফোনটি ওই কর্মীর হাতে দেওয়ার সময় তাকে জানানো হয়, পণ্যের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে কাস্টমার সার্ভিস কোনো সহায়তা করতে পারবে না।

খালিদ বলেন, বিষয়টি তার কাছে মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল একজন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আচরণের প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত তিনি ড্যাজল থেকে ফোনটি কেনেননি। পরে অন্য একটি দোকান থেকে ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় একই মডেলের আইফোন ১৭ প্রো কেনেন। তার দাবি, অন্য দোকানের কর্মীরা তাকে বেশি গুরুত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে খালিদ ড্যাজলের কর্মীদের প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম এবং ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত মূল্য এবং দোকানে জানানো মূল্যের মধ্যে এমন পার্থক্য গ্রাহকের জন্য বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ইমেজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খালিদ আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন দোকান মালিকের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার একার নয়।

তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে আরও কয়েকজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ড্যাজল থেকে পণ্য কেনার সময় নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। ফাহিম নামের এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, বসুন্ধরা শাখাতেও তার একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

ইফফাত নামের আরেক ব্যবহারকারী ড্যাজলের বিরুদ্ধে নতুন হিসেবে বিক্রি করা কিছু ফোনের ‘অননুমোদিত’ হওয়ার অভিযোগ করেন। তবে ওই মন্তব্যের পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা পোস্টে স্পষ্ট নয়।

ফাইজুল ইসলাম ফয়সাল নামের আরেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, গত বছর ড্যাজল থেকে একটি ম্যাকবুক কেনার সময় তিনিও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি বিক্রয়কর্মীদের আচরণ নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ড্যাজল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

খালিদ তার পোস্টের শেষাংশে বলেন, সাধারণত এ ধরনের ব্যক্তিগত ভোগান্তির ঘটনা তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন না। তবে তার মতে, বিষয়টি সামনে না আনলে ভবিষ্যতে অন্য গ্রাহকরাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে পারেন।

তিনি ড্যাজল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং পণ্যের ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার আহ্বান জানান।