কোহলি-ভিরাটের দ্বন্দ্বের শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালে। গম্ভীর তখন ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক, কোহলি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর নেতৃত্বে। সেই থেকে এই দুই তারকার মাঝে এক বিভেদের দেয়াল তৈরি হয়ে আছে। একজন যেন আরেকজনকে সহ্যই করতে পারেন না।
গতকাল বেঙ্গালুরু-লক্ষ্ণৌর ম্যাচ শেষে আবারো বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন ভারতের বিখ্যাত এই দুই তারকা ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যকার চলা উত্তপ্ত বাদানুবাদে যদি সতীর্থরা এগিয়ে না আসতেন, তবে সেই কথা কাটাকাটি হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যেতেও পারতো।
ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য ঘটান কোহলিই। মাত্র ১২৭ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে, দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে লক্ষ্ণৌ। আর প্রতিটি উইকেট পড়ার পর কোহলি তাঁর স্বভাবজাত বুনো উল্লাস করছিলেন।
লক্ষ্ণৌয়ের ডাগআউটের দিকে তাকিয়ে, মুখে আঙুল দিয়ে গম্ভীরকে চুপ করে থাকার ইঙ্গিত করেন কোহলি। স্ত্রী আনুশকা শর্মার জন্মদিনে তাঁর দিকে উড়ন্ত চুম্বনও দিতে দেখা যায় তাঁকে।
তবে ম্যাচের ১৭ তম ওভারে যখন লখনোর জয়ের জন্য প্রয়োজন ৪০ রান, তখনই আফগান পেসার নবীন-উল-হকের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন কোহলি। সে সময় এক আম্পায়ার ও অমিত মিশ্র এসে তাঁদের থামান।
আর ১৮ তম ওভারের চতুর্থ বলে নবীন জশ হ্যাজেলউডের বলে আউট হলে, নবীনকে উদ্দেশ্য করে বুনো উল্লাস করেন কোহলি। এমনকি ক্যাপ খুলে মাটিতে ছুড়ে ফেলেন তিনি। আর কোহলির এমন আচরণ ভালোভাবে নেননি নবীন।
তাই ম্যাচ শেষে হাত মেলানোর সময় কোহলিকে উদ্দেশ্য করে নবীন কিছু একটা বলেন। পাল্টা জবাব দেন কোহলিও। এরপরই তেড়ে আসেন গম্ভীর। তুমুল বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় সেখানেই।
দ্বন্দ্বে জড়িয়ে আচরণবিধির দ্বিতীয় স্তরের ২.২১ ধারা লঙ্ঘন করেছেন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা দুই ক্রিকেটার। শাস্তি হিসেবে তাঁদের ম্যাচ ফির পুরোটাই কেটে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া লক্ষ্ণৌয়ের আফগান পেসার নবীন উল হককে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে আজ আগে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশা অনুযায়ী শুরু করতে পারে নি বেঙ্গালুরু। নির্ধারিত ২০ ওভারে তাঁরা স্কোরবোর্ডে তুলতে পেরেছিল মাত্র ১২৬ রান।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন ফাফ ডুপ্লেসিস।
আর কোহলি করেন ৩০ বলে ৩১ রান। ওপেনিং এ দুই ব্যাটার ছাড়া বাকি কেউই লখনোর বোলারদের ভাল করে সামলাতে পারেন নি।
১২৭ রানের ছোট্ট টার্গেটে খেলতে নেমে, লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের ইনিংস থেমে যায় ১০৮ রানে। ওপেনিংয়ে নামা কার্ল মায়ার্স, ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ সিরাজের বলে আউট হন।
২৭ রানে ৪ ওইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় লক্ষ্ণৌ। এর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারে নি তাঁরা।
১৮ রানে ম্যাচ জিতে, প্লে-অফ সম্ভাবনা ভালোমতোই বাঁচিয়ে রেখেছে বেঙ্গালুরু।
৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে, তালিকার পাঁচে ফ্যাফ ডু প্লেসির দল। সমান পয়েন্ট নিয়ে, রানরেটে এগিয়ে লক্ষ্ণৌ তিনে।